প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ ‘মানুস’ অধিগ্রহণ করে চেয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ আটকে দিয়েছে চীন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা চীনা স্টার্টআপে বিনিয়োগে নজরদারি আরও কঠোর করা হলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঘোষিত এই চুক্তিতে মেটা জানায়, তৎকালীন আনুমানিক ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম জুড়ে নিজস্ব এআই-এর সক্ষমতা বাড়াতে ম্যানাসের এজেন্ট ব্যবহার করা হবে।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) গতকাল সোমবার জানিয়েছে, তারা ‘মানুস’-এর বিদেশি অধিগ্রহণ নিষিদ্ধ করছে। তবে বিবৃতিতে সরাসরি মেটার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উন্নত মার্কিন চিপে প্রবেশাধিকার সীমিত করার চেষ্টা করছে, তখন বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে চীনা এআই প্রতিভা ও মেধাস্বত্ব অধিগ্রহণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগে রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘মানুস’কে ঘিরে হওয়া এই চুক্তি বাতিল করতে চীন ঠিক কোন ভিত্তিতে এগোচ্ছে, কিংবা ইতিমধ্যে সম্পন্ন কোনো অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে বাতিল করা হতে পারে—তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
চীনা বিনিয়োগ এবং গবেষণা থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরভিত্তিক মানুস এমন সাধারণ উদ্দেশ্যের এআই এজেন্ট তৈরি করে, যা ন্যূনতম মানব হস্তক্ষেপে জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। এনডিআরসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের আইন ও বিধিমালা অনুসারেই এই চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মেটা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘এই লেনদেন প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা আশা করছি, তদন্তের একটি যথাযথ সমাধান হবে।’ হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘যে কোনো ধরনের অযাচিত বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতকে রক্ষা করে যাবে।’
মেটা গত ডিসেম্বরে মানুস অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়। চীনের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকা কোনো এআই কোম্পানি কিনতে বড় কোনো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি বিরল ঘটনা। এই চুক্তির মাধ্যমে মেটা তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এআই সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল।
মেটা জানিয়েছিল, ‘মানুস’-এ ‘চীনা মালিকানার কোনো ধারাবাহিক স্বার্থ থাকবে না’ এবং কোম্পানিটি চীনে তাদের সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীন জানায়, এই অধিগ্রহণ তাদের আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা তারা তদন্ত করবে।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে মার্কিন ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্কের নেতৃত্বে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের পর মানুস তাদের চীনের অফিস বন্ধ করে দেয় এবং ডজনখানেক কর্মী ছাঁটাই করে। এরপর তারা তাদের কার্যক্রম সিঙ্গাপুরে সরিয়ে নেয়।
এর ফলে ‘মানুস’-এর মূল কোম্পানি বাটারফ্লাই ইফেক্ট সিঙ্গাপুরে পুনর্নিবন্ধন করতে সক্ষম হয় এবং চীনা এআই প্রতিষ্ঠানে মার্কিন বিনিয়োগ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, পাশাপাশি দেশীয় এআই কোম্পানিগুলোর মেধাস্বত্ব ও পুঁজি বিদেশে স্থানান্তরের ওপর চীনের বিধিনিষেধ—উভয়ই পাশ কাটাতে পারে।
এই চুক্তি আটকে দেওয়ার চীনা উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এল, যখন মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনেরপ্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠক চলতি মাসে হওয়ার কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।