র্যাচেল রিভসের যুক্তি ছিল, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন না তাদের ওপর অন্যদের পড়াশোনার খরচ চাপানো ঠিক নয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এখন প্রায় সব খরচই গ্র্যাজুয়েটদের নিজেদের দিতে হচ্ছে। লেবার পার্টি টিউশন ফি চালু করার পর জোট সরকার তা তিনগুণ বাড়িয়েছিল। তখন আলোচনার বিষয় ছিল খরচে অংশীদারত্ব নিয়ে। তবে এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে উচ্চশিক্ষার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে।
আগামী এপ্রিল থেকে ঋণ পরিশোধের আয়ের সীমা হবে ২৯ হাজার ৩৮৫ পাউন্ড। কোনো গ্র্যাজুয়েটের আয় এ সীমার বেশি হলে বাড়তি বেতনের ৯ শতাংশ কিস্তি হিসেবে দিতে হবে। উচ্চ সুদের কারণে এটি এখন বাড়তি করের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ কিস্তি ৩০ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। যারা পর্যাপ্ত আয় করতে পারবেন না, তাদের জন্য এ ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।
কর নীতি বিশেষজ্ঞ ড্যান নিডল বলেন, বর্তমান পদ্ধতিটি অতিরিক্ত করের চাপ তৈরি করছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ারে উন্নতির আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
লেবার পার্টির সমর্থকরা দাবি করতে পারেন যে বর্তমান সরকার এ সংকট তৈরি করেনি, বরং তারা উত্তরাধিকার সূত্রে এটি পেয়েছে। তবে ঋণ পরিশোধের সীমা স্থগিত করার ফলে সমস্যাটি আরো জটিল হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েই তরুণদের এখন কঠিন শ্রমবাজার ও আবাসন সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রব ফোর্ড সতর্ক করেছেন যে শিক্ষিত তরুণ ভোটারদের অবহেলা করার একটি রাজনৈতিক মূল্য থাকতে পারে। আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার না করে শুধু ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।