মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ব্যস্ততার মধ্যেই মাতৃবিয়োগের শোক এই দুই বাস্তবতার সমন্বয় করাই তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। গণতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষায় শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং কার্যকর বিরোধী দল থাকাই গণতন্ত্রের জন্য বেশি সহায়ক।”
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে জনগণ যাকে প্রত্যাখ্যান করে, তাকে শক্তি প্রয়োগ করে টিকিয়ে রাখা যায় না।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সুযোগ উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্কদের জন্যও ইশতেহারে পৃথক কর্মসূচি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমি দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। কোনো চুক্তি যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার।”
গত দেড় দশকে গুম ও খুনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে মানুষ গুম হবে আর বিচার হবে না এটা গ্রহণযোগ্য নয়।” প্রচলিত আইনের আওতায় সব ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, দুর্নীতি ও ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া এক বিষয় নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকার বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ফলে অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঋণ খেলাপি হয়েছেন। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।