এইবার জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে
গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে একটি বৈঠকের উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনে পরশু দিন একটা মিটিং হয়েছে। সেই মিটিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন, নির্বাচনের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করো, প্রয়োজনে আগাম নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করো। অর্থাৎ, তারা এখন ভিন্ন কৌশল নিতে চায়। আগাম নির্বাচন করে গোটা জাতিকে বোকা বানিয়ে তারা আগের মতো নির্বাচন করতে চায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, এইবার জনগণ আপনাদের কোনো কৌশলই সফল হতে দেবে না। আপনাদের কোনো ফাঁদে তারা পা দেবে না। এবার জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলে আপনাদের সব ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেবে।’
ফখরুল বলেন, এই সরকার গণতন্ত্র মানে না। মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। তার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকা। জোর করে বন্দুক-পিস্তল দিয়ে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা জনগণের বেতন দিয়ে জীবন চলে, তারা আজকে সহযোগিতা করছে। কিন্তু এই দেশের মানুষ কখনো অন্যায় মেনে নেয়নি।
সাধারণ মানুষ অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা আজকে না খেয়ে থাকে। অথচ সরকার মানুষকে বোকা বানানোর জন্য, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মিথ্যা তথ্য তৈরি করে দেখাতে চায় যে এই সরকারের উন্নয়নে বেকারের সংখ্যা গত তিন বছরে কমে গেছে ২৬ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘কী মিথ্যা কথা। আমার কথা না, এ দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদেরা বলছেন যে এগুলো সঠিক তথ্য নয়, এগুলো সব সাজানো তথ্য। এভাবে মানুষে বোকা বানিয়ে প্রতারণা করে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। ’
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণ যেভাবে জেগে উঠছে, আমরা নিশ্চিত এই সরকারকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। এবং জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা পরাজিত হবে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ দেশের অবস্থা কী, দ্রব্যমূল্যর অবস্থা কী। গরিব মানুষ খেতে পায় না। আর আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট ধনী থেকে আরও ধনী হয়েছে। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একজন রিকশা চালকের বক্তব্য ‘টানা তিন মাস মাছ, মাংস খাইতে পারি নাই’ তুলে ধরে বলেন, ‘এর থেকে বাস্তব সত্য কথা আর কোনো কিছু হতে পারে না। এই সত্য কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকেরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। সে কারণে আমরা রমজানের মধ্যেও অবস্থান কর্মসূচিতে আসতে বাধ্য হয়েছি।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছেলেটা তার রিপোর্টে দারিদ্র্যের কথা বলেছে, ক্ষুধার কথা বলেছে। এই কারণে কী ছেলেটাকে গ্রেপ্তার করতে হবে? মামলা দিতে হবে? এটা সহ্য করা যায় না। আপনারা এত দিন সাধারণ মানুষের গায়ে হাত দিয়েছেন। যারা জনগণের কথা তুলে আপনারা তাদের গ্রেপ্তার শুরু করেছেন। সাহস অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু এই দেশের মানুষ কখনো এ ধরনের অপসাহসী শক্তিকে প্রশ্রয় দেয় নাই, কথাটা মনে রাখবেন।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন প্রমুখ।