চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার উজবেকিস্তানের সামারকান্দ শহরে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া নিউজ বলেছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ২২তম সম্মেলনে যোগ দিতে উজবেকিস্তানে গেছেন।
সাংহাই কো-অপারেশন সম্মেলনের মাঝেই বৃহস্পতিবার আলাদাভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা বলবেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।
এদিকে উজবেকিস্তানে পুতিন-শি বৈঠকের মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি কথা হবে এ দুই নেতার।
গত ফেব্রুয়ারিতে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেইজিংয়ে যান পুতিন। সেখানে তাদের দেখা হয়। এর কয়েকদিন পরই ইউক্রেনে হামলা করে বসে রাশিয়া। এরপর তাদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে।
এর আগে প্রায় এক হাজার দিন আগে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিশ্বে চীনের বিচ্ছিন্নতা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছিল বলে মনে করছে দেশটি। তবে এবার চীনা প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ব দরবারে নিজের অনিবার্যতার জানান দিতে চাচ্ছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এই প্রথম রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন শি জিনপিং। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় এই সম্পর্ককে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বেইজিং।
এটি উজবেকিস্তানে চীনা-প্রতিষ্ঠিত একটি সুরক্ষা ফোরামের পাশে ঘটবে, যেখানে ভারত থেকে ইরান পর্যন্ত দেশগুলোকে একত্র করবে। এই বলয় তৈরির উদ্দেশ্য হলো একটি বহুমুখী বিশ্বের গঠনকে ত্বরান্বিত করা।
কাজাখস্তানে ৯ বছর আগের করা বেল্ট-অ্যান্ড-রোড ট্রেড-অ্যান্ড-ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিকল্পনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। চীনের বিদেশনীতির এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও জি-৭-এ তার অন্য মিত্রদের কৌতূহলের মূলকেন্দ্রে ছিল। গত জুনে তারা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে চীনের অর্থের বিকল্প হিসেবে ৬০ হাজার কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়।
তবে এই পদক্ষেপ শি জিনপিংয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ব গঠনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। যে বিশ্বে চীন তার প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই নিজেদের সুবিধাগুলো আরও প্রসারিত করতে পারবে।
দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার সহপ্রতিষ্ঠাতা ট্রে ম্যাকআরভার বলেন, শি জিনপিং চেষ্টা করছেন বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহকে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে। একই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে সাজাতে চান, যেটি চীনের স্বার্থ ও তাদের বিশ্বদর্শনকে প্রতিফলিত করবে।
ট্রে ম্যাকআরভার আরও বলেন, পুতিনের সঙ্গে জিনপিংয়ের বৈঠক খুবই স্পষ্ট একটি বার্তা দিচ্ছে, আর তা হলো বৈশ্বিক এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও চীন রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে।
এদিকে জি ও পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ফেব্রুয়ারিতে তারা নিজেদের মধ্যে ‘সীমাহীন’ বন্ধুত্বের ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি পুতিন দেখছেন রাশিয়ান শক্তি ইউক্রেন থেকে কিছুটা পিছু হঠছে এবং ইউক্রেন বিশাল পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই তাইওয়ানকে করায়ত্ব করতে গিয়ে গিয়ে শি জিনপিংকে বিশাল চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ সব কারণে তাদের দুজনকে একাট্টা হতে হবে।
https://www.facebook.com/pundrotvbd/videos/611630360676888