পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার এবার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা মামলাটির দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
রাজ্য পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এর আগে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) মামলাটি তদন্ত করছিল। তবে জটিলতা ও বহুরাজ্য সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়ায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে। অভিযোগ অনুযায়ী, দমদম বিমানবন্দর পার হয়ে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া মোড়ের কাছে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি থামায় একটি চারচাকার গাড়ি। এরপর একটি মোটরসাইকেল থেকে নেমে আততায়ীচক্র গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে চন্দ্রনাথ রথ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর গাড়িচালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরই পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। তদন্তে একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
মামলার তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গত সোমবার প্রথম গ্রেপ্তারের খবর আসে। রাজ্য পুলিশের এসআইটি উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের শার্প শুটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন উত্তরপ্রদেশের এবং একজন বিহারের বক্সার জেলার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা আরও গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সন্ধান পেয়েছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আততায়ীচক্রটি কলকাতায় প্রবেশের আগে বালি টোল প্লাজায় ইউপিআই পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন করেছিল। সেই ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে পৌঁছান।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হবে, যা কলকাতা জোনের যুগ্ম পরিচালকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এখন পুরো ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক রাজ্যের সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে। ফলে মামলাটি আরও জটিল আকার নিয়েছে। বর্তমানে সিবিআই তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত নথি ও প্রমাণ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।