1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
বগুড়া জনবসতিতে ২২ প্রতিষ্ঠানের অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা - Pundro TV
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন



বগুড়া জনবসতিতে ২২ প্রতিষ্ঠানের অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

জনবসতি থেকে নিরাপদ দূরত্ব, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার কথা না সরকারের। তবে বগুড়ায় ২২টি প্রতিষ্ঠান জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবসা করছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাদে অন্যগুলোর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতিও নেই। একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানাও জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এক জায়গার অনুমতি নিয়ে অন্য জায়গায় কারখানাও করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোজাহিদুল ইসলাম জানান, অক্সিজেন বা অ্যাসিটিলিনের মতো একটি গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে এর ভয়াবহতা মুহূর্তেই কয়েকশ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আশপাশে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডারগুলো আবাসিক ভবনের দেয়াল ঘেঁষে কিংবা ছোট দোকানঘরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অত্যন্ত দাহ্য অ্যাসিটিলিন ও অন্যান্য শিল্প গ্যাসও থাকছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্র বলছে, বগুড়া জেলায় বর্তমানে গ্যাস মজুত ও সরবরাহের বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫। বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, বগুড়া সদরের পূর্ব পালশা ও শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার পিওর অক্সিজেন সাপ্লায়ার, শহরের কারমাইকেল রোডের অক্সিজেন পয়েন্ট ও কামারগাড়ীর ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্টস এবং শেরপুরের গাড়ীদহ এলাকার স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের মজুত ও সরবরাহ লাইসেন্স আছে।

লাইসেন্স এক জায়গায়, কার্যক্রম অন্যত্র 
বগুড়ায় বড় পরিসরে অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের রিফিলিং ও মজুতের লাইসেন্স আছে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকার প্লান্টের নামে।

বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্সে উল্লিখিত নির্দিষ্ট স্থানেই গ্যাস সংরক্ষণ, রিফিলিং ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। কারণ এসব স্থাপনার জন্য নিরাপদ দূরত্ব, খোলা জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শর্ত ভেঙে ২০ কিলোমিটার দূরে বগুড়া শহরের জনবহুল তিনমাথা রেলগেট এলাকায় একমাত্র রিফিলিং পয়েন্টের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ আশপাশেই আবাসিক ভবন, দোকানপাট ও যানবাহনে পূর্ণ সড়ক। যেখানে গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার ঢুকছে, সেখান থেকেই খালাস ও সিলিন্ডার রিফিল করা হচ্ছে।

বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্থান উপযোগিতা যাচাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড তিনমাথা এলাকার এই কার্যক্রমের জন্য আলাদা অনুমোদন নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাফ্‌ফর হোসেন বলেন, দিনের তুলনায় রাতেই এখানে গ্যাস খালাস ও রিফিলিং বেশি হয়। গভীর রাতে একাধিক ট্যাঙ্কার এনে অনেকটা গোপনে কাজ সারা হয়।
জানতে চাইলে স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, শেরপুরের গাড়ীদহে তাদের রিফিলিং পয়েন্ট নেই। তাই তারা বগুড়ার তিনমাথাতে শুরু থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা 
শহরের কামারগাড়ী, তিনমাথা, মফিজ পাগলা মোড়, বনানী, বাদুড়তলা, ফুলতলা ও মেডিকেল রোডসংলগ্ন এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস মজুতের বড় কেন্দ্র। যেসব দোকান বা ছোট গুদামে সাধারণত হার্ডওয়্যার, ওয়েল্ডিং সরঞ্জাম বা ইলেকট্রনিক পণ্য থাকার কথা, সেসব জায়গায় রাখা হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, দাহ্য অ্যাসিটিলিন, নাইট্রাস অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের গ্যাস। বেশির ভাগ গুদামে একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস একসঙ্গে মজুত করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে।

কামারগাড়ী এলাকায় মেসার্স নবেল ট্রেডার্স নতুন পরিচয়ে নবেল ফায়ার ফাইটিং নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি শাখা মফিজ পাগলা মোড়ে সিলভী ট্রেডার্স অক্সিজেন নামে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স থাকলেও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানের মালিক এস এম শাহেদ বলেন, ‘এভাবেই আমরা ব্যবসা করি। কখনও সমস্যা হয়নি।’

একই চিত্র সিয়াম অক্সিজেন অ্যান্ড ফায়ার সেফটি নামে প্রতিষ্ঠানের; যেখানে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দাহ্য গ্যাসের ব্যবসা চলছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নয়ন মণ্ডল জানালেন, তাঁর বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই এবং এ জন্য আবেদনও করেননি। লাইসেন্স ছাড়া কেন ব্যবসা করছেন– প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী, আমাদের এগুলো লাগে না।’

বাদুড়তলা এলাকার নিউ নবেল ট্রেডার্সের বিস্ফোরক লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের বনানীর মামুন ট্রেডার্স, সেফ লাইফ অক্সিজেন সার্ভিস, ফুলতলার নূর এন্টারপ্রাইজসহ আরও ১০টি বিক্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে।

বগুড়া জেলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তালিকা করা হচ্ছে। শহরের ভেতরে যেভাবে বিভিন্ন গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চচাপের গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST