1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
সুপার কম্পিউটারের জাদুতে সিনথেটিক মহাবিশ্ব - Pundro TV
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন



সুপার কম্পিউটারের জাদুতে সিনথেটিক মহাবিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

মহাবিশ্বের জন্মরহস্য উন্মোচনে মানবজাতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। অত্যাধুনিক সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন একটি ‘সিনথেটিক মহাবিশ্ব’ বা কৃত্রিম মহাজাগতিক সিমুলেশন, যা বিস্ময়করভাবে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন- আজহারুল ইসলাম অভি

দীর্ঘ কয়েক দশকের তথ্য এবং কয়েক বিলিয়ন বছরের বিবর্তন প্রক্রিয়াকে গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে একীভূত করে এই ডিজিটাল মহাবিশ্ব তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ করেছেন। মূলত ‘কোলিব্রি’ (COLIBRE) প্রকল্পের অধীনে এই সিমুলেশন তৈরি করা হয়েছে, যা বিগ ব্যাং-এর পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত গ্যালাক্সি বা ছায়াপথগুলোর গঠনপ্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

সিমুলেশনের নেপথ্যে প্রযুক্তি : একটি আস্ত মহাবিশ্বকে কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারগুলোর সম্মিলিত শক্তি। বিজ্ঞানীরা এতে কয়েক ট্রিলিয়ন কণা (Particles) ব্যবহার করেছেন। এই সিমুলেশনটি কেবল নক্ষত্র বা গ্রহের অবস্থানই দেখায় না, বরং মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ (Dark Matter) এবং ‘ডার্ক এনার্জি’ (Dark Energy) কীভাবে গ্যালাক্সিগুলোকে ধরে রেখেছে, তারও একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়। এর আগে মহাবিশ্বের সিমুলেশন তৈরি হলেও এবারই প্রথম সাধারণ গ্যাসের পাশাপাশি মহাজাগতিক ধূলিকণা এবং ব্ল্যাক হোলের প্রভাবকে এত সূক্ষ্মভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কেন এটি বিস্ময়কর? : এই কৃত্রিম মহাবিশ্বের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর নির্ভুলতা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) বর্তমানে মহাকাশের গভীর থেকে যে ধরণের উচ্চ রেজোলিউশন ছবি পাঠাচ্ছে, সুপারকম্পিউটারে তৈরি এই সিমুলেশনের ফলাফল তার সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো, মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বর্তমান ধারণা বা গাণিতিক মডেলগুলো সঠিক পথেই রয়েছে। যখন কোনো কৃত্রিম মডেল বাস্তবের সঙ্গে মিলে যায়, তখন বিজ্ঞানীরা সেই মডেল ব্যবহার করে মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারেন।

গবেষণায় প্রভাব : বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ‘সিনথেটিক মহাবিশ্ব’ আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণায় একটি গাইডবুক বা মানচিত্র হিসেবে কাজ করবে। নতুন কোনো টেলিস্কোপ যখন মহাকাশে পাঠানো হবে, তখন সেটি ঠিক কোথায় এবং কী খুঁজবে, তা আগে থেকেই এই সিমুলেশন দেখে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ব্ল্যাক হোল কীভাবে গ্যালাক্সির বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অমীমাংসিত রহস্য সমাধানেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা : মহাবিশ্বের ৯৫ শতাংশই এখনও মানুষের অজানা। এর মধ্যে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির রহস্য ভেদ করা আধুনিক বিজ্ঞানের বড় চ্যালেঞ্জ। সুপারকম্পিউটারের এই সিমুলেশনটি সেই অজানা জগতের অদৃশ্য শক্তিগুলোকে দৃশ্যমান করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম নয়, বরং এটি একটি ‘ডিজিটাল ল্যাবরেটরি’, যেখানে বসে কয়েক বিলিয়ন বছরের ইতিহাসকে কয়েক ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে মানুষ এখন অসীম মহাকাশকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসছে। সিনথেটিক এই মহাবিশ্ব হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জানাবে- কীভাবে পৃথিবী বা আমাদের সৌরজগতের মতো কাঠামো তৈরি হয়েছিল এবং আগামী কয়েক বিলিয়ন বছর পর আমাদের এই মহাবিশ্বের পরিণতি কী হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST