1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
লেভেল ক্রসিংয়ে পাঁচ বছরে কুমিল্লায় ৪ শতাধিক নিহত - Pundro TV
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন



লেভেল ক্রসিংয়ে পাঁচ বছরে কুমিল্লায় ৪ শতাধিক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার লেভেল ক্রসিংগুলো যেন ক্রমে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এসব ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন হাজারের বেশি। অসাবধানতা, দায়িত্বহীনতা, সরকারি উদাসীনতা ও কর্তব্যে অবহেলাসহ নানা কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা অঞ্চলে প্রায় ১০২ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এই অংশজুড়ে ১৫০টিরও বেশি বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ৬৬টি এবং অবৈধ ৭৪টি। এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, যা পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের একটি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মেইল ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং ১৫ জন আহত হন। এ ছাড়া অতীতেও একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০১১ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল এলাকায় একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। ২০২৪ সালে বুড়িচংয়ের কালিকাপুরে অবৈধ ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার সাত যাত্রী প্রাণ হারান। ২০২৩ সালে মানোহরগঞ্জের তুগুরিয়া এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় নিহত হন পাঁচজন। আর ২০২২ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে রেললাইনে কাটা পড়ে তিন স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুমিল্লার লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের ২২ কিলোমিটার এলাকায় বৈধ ১৪টি ও অবৈধ ১৭টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের ১৪ কিলোমিটারে বৈধ ৪টি ও অবৈধ ১৩টি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা অংশের ৬৬ কিলোমিটারে বৈধ ৬৬টি ও অবৈধ ৭৪টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে।

তবে গত পাঁচ বছরে ৪ শতাধিক মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের বাইরেও আরও অনেক ঘটনার তথ্য রয়েছে, যা থানায় লিপিবদ্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রেললাইনের ওপর বা পাশে বাজার বসা, জনবসতি গড়ে ওঠা, মানুষের অসতর্ক চলাচল, পরিবহন চালকদের বেপরোয়া গতি এবং গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা।

এ বিষয়ে ‘কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ’ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, অবৈধ লেভেল ক্রসিং নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের বিশেষ উদ্যোগ জরুরি। তিনি পদুয়ার বাজার এলাকায় দুর্ঘটনা কমাতে রেলওভারপাসটি পল্লীবিদ্যুৎ পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং লাকসাম-নোয়াখালী সড়কে একটি ওভারপাস নির্মাণের দাবি জানান।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোতে। তাই সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

অন্যদিকে, রেলওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. আনিসুজ্জামান ও গোলাম সারোয়ার জানান, অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমাতে তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা কমাতেও তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST