নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলাধীন হাছলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তায়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখলেও রহস্যজনক কারণে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়নি। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাউশি সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এক স্মারক মূলে তায়জুল ইসলামের বেতন-ভাতাদি ‘স্টপ পেমেন্ট’ বা স্থগিত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নং- ১২১৫৩/২০২৫) দায়ের করেছিলেন।
তবে মাউশির আইন শাখার মতামত এবং নথিপত্র যাচাই শেষে অধিদপ্তর জানায় যে, এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১(খ) ধারা অনুযায়ী তার বেতন স্থগিত থাকায় তা পুনর্বিবেচনার কোনো আইনি সুযোগ নেই। গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাউশির সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুবায়ের আবু সাঈদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পায়। তায়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হওয়া উল্লেখযোগ্য অনিয়মগুলো হলো :
অনিয়মের দায়ে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তায়জুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মো. বজলুর রহমান ঠাকুরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পরপরই ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছায় এক মাসের ছুটিতে গেলেও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ে আর যোগদান করেননি। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তায়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ওঠার পর তিনি পার্শ্ববর্তী কয়রা পাড়া গ্রামে গিয়ে নিজের পক্ষে জনমত তৈরি করতে অর্থ বিলি করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। সেসময় তাকে গ্রামবাসী বাধা দিলে তিনি এক ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে নিজেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেন যে তাকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছিল। অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ঠাকুর অভিযোগ করেন, তায়জুল ইসলাম বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
এ বিষয়ে তায়জুল ইসলামকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অনতিবিলম্বে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত এবং দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।