ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ঈদুল ফিতরের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে উত্তেজনা।
বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মেয়র পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এর পরেই সামাজিকমাধ্যমে এ নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ রব দেখা দিয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রাথমিকভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করে এনসিপির একাধিক নেতা। এরপর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোষ্টে ঢাকা দক্ষিণ থেকে ইশরাক হোসেনও নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
দুই দলের দুই নেতার মেয়র নির্বাচনের ঘোষণায় নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। কেউ বলছেন, এটা রীতিমতো ‘ইমেজ’ রক্ষার যুদ্ধ। আবার কেউ এই যুদ্ধকে ‘প্রত্যাশিত’ বলছেন। কেউ কেউ দুজনকে শুভকামনাও জানাচ্ছেন।
২০২০ সালের ডিএসসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপির ইশরাক হোসেন। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকার শেখ ফজলে নূর তাপসকে অপসারণ করে। ওইদিনই নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনে ইশরাক হোসেনকে প্রকৃত বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন।
পরবর্তীতে ওই বছরের ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তাকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করলেও, পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে শপথ পড়ানো সম্ভব হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ফলে আদালতের রায়ে বৈধ মেয়র ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেননি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচনে এ দুজনের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাজী এনায়েতুল্লাহ। তিনি ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-৭ আসনের এমপি প্রার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত বাতিলের পর এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছেন আলোচিত মডেল মেঘনা আলমও।