1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের নয়া ফন্দি ইসরায়েলের - Pundro TV
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন



ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের নয়া ফন্দি ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘ ৬ দশক পর আবারও ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো নেওয়া এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ এবং বর্ণবাদী শাসনকে পাকাপোক্ত করার একটি আইনি কৌশল হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের পেশ করা একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পর এই ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।ভূমি ও আবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলি সংস্থা ‘বিমকোম’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জমি দখল ২০২৫ সালে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইসরায়েলকে ভূমি দখলের একটি ‘আইনি পথ’ করে দেবে, যা মূলত বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি ছাড়া করার একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া।

বিমকোম’র গবেষণা প্রধান মিশাল ব্রায়ার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ফিলিস্তিনিদের একটি বড় অংশের পক্ষে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অসম্ভব হবে। কারণ, ব্রিটিশ ও জর্ডান শাসনামলের পর থেকে পশ্চিম তীরের প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমিই কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের আওতায় নেই। ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা প্রমাণ করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও জানান, যাদের জমির কাগজপত্র আছে, তাদের ক্ষেত্রেও মালিকানা প্রমাণের আইনি শর্তগুলো এতই কঠিন করা হয়েছে যে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিই তা পূরণ করতে পারবেন না।ইসরায়েলের বসতিবিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’ এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি ভূমির ‘পূর্ণাঙ্গ সংযুক্তি’ বা দখলের শামিল বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের সদস্য হাগিত অফরান বলেন, ‘সরকার এখন ১০০ বছর আগের ব্রিটিশ বা জর্ডান আমলের নথিপত্র চাইছে। খুব কম ফিলিস্তিনির পক্ষেই তা দেখানো সম্ভব হবে। ফলে ডিফল্ট নিয়ম অনুযায়ী এই জমিগুলো ইসরায়েলের নামে নথিভুক্ত হয়ে যাবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮-৪৯ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের একটি বিশাল অংশ শরণার্থী হতে বাধ্য হয় এবং তাদের অনেক নথিপত্র হারিয়ে যায়। ১৯৬৮ সালে ইসরায়েল এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছিল, যার ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা প্রমাণ করা ফিলিস্তিনিদের জন্য আগে থেকেই কঠিন ছিল।

অনুরূপ একটি প্রক্রিয়া ২০১৮ সাল থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কার্যকর রয়েছে। বিমকোম-এর গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেখানে নিবন্ধিত জমির মাত্র ১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের নামে হয়েছে। বাকি ৯৯ শতাংশ জমি ইসরায়েল রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত ইসরায়েলি মালিকানাধীন হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং জমি বাজেয়াপ্তকরণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তবে আদালতের এই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই ইসরায়েল সরকার তাদের বসতি সম্প্রসারণ নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইসরায়েল সরকার তাদের উদ্দেশ্য এখন আর গোপন রাখছে না। তারা চায় ফিলিস্তিনিদের যতটা সম্ভব ক্ষুদ্রতম এলাকায় ঠেলে দিয়ে পুরো ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST