জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা অসম্ভব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি স্তরে নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে তার এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হতে হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ নামক বন্দিশালাকে তিনি ‘জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান’ আখ্যায়িত করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘১৪ শতাধিক’ মানুষের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার সময়কালের নারী শিক্ষার অগ্রগতিকে আরও বেগবান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা অব্যাহত থাকবে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন এবং নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘ইলেকট্রিক পরিবহন’ চালু করা হবে। সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শহরগুলোতে নারীদের জন্য পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান তার ভাষণে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার কথা বলেন। বিশেষ করে ড্রপআউট (ঝরে পড়া) শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হাইস্কুল (মাধ্যমিক) পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল (বৃত্তিমূলক) শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি সিলেবাসে তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তারেক রহমান বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত হলো নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ। স্থানীয় পরিষদের মাধ্যমে এই অধিকার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে কুক্ষিগত থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দেশের টাকা দেশে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা সেই পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দিতে চাই।’
প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির নীতি স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে কেবল সংবিধান মোতাবেক। আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে শাসক শ্রেণি সরকারি পদ-পদবিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে।
জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা অসম্ভব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি স্তরে নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে তার এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত।’
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হতে হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ নামক বন্দিশালাকে তিনি ‘জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান’ আখ্যায়িত করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘১৪ শতাধিক’ মানুষের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার সময়কালের নারী শিক্ষার অগ্রগতিকে আরও বেগবান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা অব্যাহত থাকবে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন এবং নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘ইলেকট্রিক পরিবহন’ চালু করা হবে। সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শহরগুলোতে নারীদের জন্য পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান তার ভাষণে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার কথা বলেন। বিশেষ করে ড্রপআউট (ঝরে পড়া) শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হাইস্কুল (মাধ্যমিক) পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল (বৃত্তিমূলক) শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি সিলেবাসে তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তারেক রহমান বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত হলো নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ। স্থানীয় পরিষদের মাধ্যমে এই অধিকার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে কুক্ষিগত থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দেশের টাকা দেশে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা সেই পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দিতে চাই।’
প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির নীতি স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে কেবল সংবিধান মোতাবেক। আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে শাসক শ্রেণি সরকারি পদ-পদবিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে।
দেশ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব। আমাদের লড়াই কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার।’
তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
ভাষণের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।’ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন। তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।