ঢাকার আকাশ সকালেই মেঘে ঢেকে যায়। ভোর থেকে শুরু হওয়া মেঘের গর্জন ক্রমেই বাড়তে থাকে। সকাল ৭টার পরপরই সন্ধ্যায় আবহ তৈরি হয়। এরপরই নামে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে বয়ে যায় ঝোড়ো হাওয়া। আকাশের মন খারাপের এই দিনে ঢাকার বাতাসের মানের কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
শনিবার (১০ মে) সকাল পৌনে ৯টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৮৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৬ নম্বরে রয়েছে ঢাকা। এদিন ঢাকার বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য মাঝারি মানের হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ২১২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মিশরের কায়রো শহর; ২০৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ শহর, ১৬৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ইন্দোনেশিয়ার মেদান শহর; এ ছাড়া ১৬২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে ভারতের দিল্লি এবং ১৫৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে কঙ্গোর কিনসাসা শহর।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়; আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে; যেমন: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে থাকে। এটা সব বয়সি মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।