ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি রাজশাহীর ব্যস্ত সড়কগুলো এখন প্রকৃতির এক রঙিন ক্যানভাস। কোথাও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জারুলের বেগুনি আভা, কোথাও সোনালুর হলুদ থোকা বাতাসে দুলছে, আবার কোথাও কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনের উপস্থিতি পুরো শহরকে এক অন্যরকম রূপ দিয়েছে। ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে এই ফুলের সারি পথচলতি মানুষের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তির ছোঁয়া।
রাজশাহী নগরের আলিফ-লাম-মীম ভাটা এলাকা থেকে নাদের হাজির মোড় হয়ে চৌদ্দপাই বিহাস পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দৃশ্য এখন সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়ার দখলে। সড়কের বিভাজনে থাকা পামগাছ, রঙ্গন আর কাঠগোলাপের সাদা-হলুদ সংমিশ্রণ পথচারীদের নজর কাড়ছে। বিকেলের নরম আলোয় সোনালুর উজ্জ্বলতা আর সন্ধ্যার আগে জারুলের বেগুনি রঙের মায়াবী আবহ এই পথটিকে এখন ‘স্বস্তির ঠিকানা’ হিসেবে পরিচিত করেছে।
সড়কটি এখন আর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং বিনোদনের স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে পরিবার নিয়ে অনেকেই এখানে ভিড় করছেন, তুলছেন সেলফি।
নাটোর থেকে আসা মোটরসাইকেলচালক রাজিব বলেন, অনলাইনে ভিডিও দেখে এই সড়কটি দেখতে এসেছি। এত ফুলের সমারোহ সত্যিই চোখের শান্তি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা রোবি আক্ষেপ করে বলেন, ফুলের সৌন্দর্য দেখতে সবাই এলেও অনেকে ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যা ঠিক নয়।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ব্যাপক গাছ রোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ২৭১টি গাছ রোপণ করা হয়। গত এক দশকে রাজশাহী নগরজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮১টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পিত বনায়ন নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীর এই অপরূপ সৌন্দর্য আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল। কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ নানা প্রজাতির ফুল আজ শহরকে নান্দনিক সাজে সাজিয়েছে। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমরা নিয়মিত পরিচর্যা ও পানি দেওয়া নিশ্চিত করছি। গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের আলাদা
একটি বিভাগও কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজশাহীকে আরও আধুনিক ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।