1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
গেজ রোগ ও পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা - Pundro TV
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন



গেজ রোগ ও পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা ও অ্যানাল ফিসারÑ পায়ুপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত রোগ, যা অনেকের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি ও জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অ্যানাল ফিসার হলো, (গেজ রোগ) মূলত মলদ্বারের চারপাশের চামড়ায় ফাটল বা ক্ষত সৃষ্টি হওয়া। মলত্যাগের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, ছুরির ধারের মতো ব্যথা, এবং কখনো রক্তপাতÑ এসবই এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে রোগী মলত্যাগে ভয় পেতে শুরু করেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। কিন্তু পায়ুপথের রোগ হওয়ায় লজ্জা, সংকোচ বা অবহেলার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে নিরাময়যোগ্য সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে ওঠে এবং একসময় অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প থাকে না। অথচ শুরুতেই সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

অ্যানাল ফিসার সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে পায়ুপথের গঠন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। পায়ুপথের পেছনের অংশকে বলে মলাশয়। এখান থেকে মলদ্বার দিয়ে মল বাইরে বের হয়। মলদ্বারের চারপাশে থাকা মাংসপেশি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন মল শক্ত হয় বা মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয়, তখন কোমল চামড়া ফেটে যেতে পারে

এ ফাটলই অ্যানাল ফিসার নামে পরিচিত। ফাটল তৈরি হলে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়, মাংসপেশি অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে পায়ুপথ সরু হয়ে পড়ে। এতে মলত্যাগে আরও কষ্ট হয়। ব্যথার কারণে মলত্যাগে অনীহা আসে। ফলে মল আরও শক্ত হয় এবং ফাটল আরও বাড়ে। ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক ফিসারে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা হলো, পায়ুপথের ভেতরের অংশ ও বাইরের ত্বকের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক নালির সৃষ্টি হওয়া। এটি মলদ্বারের গ্রন্থিতে সংক্রমণের ফলে তৈরি পুঁজভর্তি ফোঁড়া থেকে শুরু হয়। যখন পুঁজ বাইরে বের হওয়ার পথ তৈরি করে, তখন তা ফিস্টুলায় পরিণত হয়। কারণ হিসেবে মলদ্বারের গ্রন্থির সংক্রমণ ছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যেমনÑ যক্ষ্মা, পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের জটিলতা, ট্রমা, যৌনবাহিত কিছু সংক্রমণ, অ্যাকটিনোমাইকোসিস নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, জন্মগত মলাশয়ের গঠনগত অস্বাভাবিকতা দায়ী হতে পারে।

পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলার লক্ষণ বেশ স্পষ্ট। মলদ্বারের পাশে ছোট একটি ছিদ্র বা গর্ত দেখা যায়, যেখান থেকে বারবার পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল নির্গত হয়। এর সঙ্গে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি এবং মাঝে মাঝে জ্বর থাকতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা সাধারণত নিজে নিজে ভালো হয় না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে ফিস্টুলোটমি সবচেয়ে প্রচলিত। জটিল ক্ষেত্রে সেটন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের সুতা বা রাবার ফিস্টুলার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ধীরে ধীরে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে লেজারসহ কম কাটা বা মিনিমালি ইনভেসিভ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমনÑ ফিস্টুলা ট্র্যাক অপসারণ পদ্ধতি, ভিডিও সহায়তায় ফিস্টুলা চিকিৎসা, লিগেশন পদ্ধতি ইত্যাদি।

লেখক : কোলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন এবং

পায়ুপথ ও স্তন সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত

অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ (অব.), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, মিরপুর-১০, ঢাকা

হটলাইন : ০১৮১৯২৪৯৪৩৮, ০৯৬৬৬৭৮৭৮০৭

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST