উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে স্পেনের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ১-১ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। দুই দলের মধ্যকার এই লড়াইয়ে গোল দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে, ফলে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ গড়িয়েছে ফিরতি লেগে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক। খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল না খেললেও ম্যাচের শেষদিকে গিয়ে তৈরি হয় নাটকীয়তা। প্রথম সুযোগ পায় অ্যাতলেটিকো, তবে হুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রাইয়া। অন্যদিকে আর্সেনালের ননি মাদুয়েকের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন ভিক্টর ইয়োকেরেস। পেনাল্টি থেকে নির্ভুল শটে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এই সুইডিশ স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে গোল করে ইতিহাসেও নাম লেখান তিনি।বিরতির পর কৌশল বদলে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে অ্যাতলেটিকো।
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। বক্সে বেন হোয়াইটের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান আলভারেজ।
সমতা ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা নিজেদের দখলে নেয় আতলেতিকো। অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর অ্যাডেমোলা লুকম্যান একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন। শেষদিকে আবার নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন আর্সেনাল পেনাল্টি পেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেটি বাতিল করে।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল অ্যাতলেটিকো। তারা প্রায় ৫১ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে আর্সেনাল ৮টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। তবে দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষক রায়ার পারফরম্যান্সে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংলিশ ক্লাবটি।
এই ড্রয়ের ফলে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আর্সেনাল, যারা চলতি আসরে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নিজেদের ইতিহাসের সেরা ধারাবাহিকতার সমতা ছুঁয়েছে। সর্বশেষ ২০০৫-০৬ মৌসুমে তারা এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালের পর আবারও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে আতলেতিকো। প্রথম লেগে ভালো পারফরম্যান্স করলেও জয়ের দেখা না পাওয়ায় এখন সব নির্ভর করছে ফিরতি লেগের ওপর।
আগামী মঙ্গলবার লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় লেগ। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে—দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোন দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নেবে।