ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইমন মিয়া (২৪)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা হোসেন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে তালতলা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন।পথে একাধিক সিএনজি অটোরিকশায় করে আসা ১০-১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তার পথরোধ করে। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে ইমনকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। ইমনের বড় ভাই তরিকুল মিয়া জানান, তার ভাইয়ের বুকে তিনটি গুলি লেগেছে এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
তরিকুলের দাবি, এর আগে বড়িকান্দির গণিশাহ দরবার শরীফের সামনে একটি হোটেলে সংঘটিত দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইমন সাক্ষী ছিলেন।সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বড়িকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর একই এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিপন ও ইয়াছিন নামে দুইজন নিহত হন।