1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
টিউলিপকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে যা জানাল বিএনপি - Pundro TV
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন



টিউলিপকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে যা জানাল বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সদ্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যানের তারেক রহমানের জ্যেষ্ঠ সহকারী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট ইউকে।

লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসনের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকার একটি আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে যুক্তরাজ্য সরকার শুরু থেকেই এ রায়কে স্বীকৃতি না দেওয়ার কথা জানিয়ে আসছে।

ঢাকায় একটি জমির প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত চুক্তি মামলায় টিউলিপের সঙ্গে তাঁর খালা ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। টিউলিপ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযোগের বিস্তারিত কখনও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির—যিনি সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও আলোচনায় আছেন—দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক বা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন সরকার পিছপা হবে না। তাঁর ভাষ্য, দণ্ডিত হওয়ার পর বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হলো স্বচ্ছ উপায়ে তাঁদের দেশে ফেরত চাওয়া।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় টিউলিপকে সাজা ভোগের জন্য দেশে পাঠানো কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তি না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণ সম্ভব। তবে লেবার পার্টি বিচারপ্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির ভাষ্য, টিউলিপ ন্যায্য আইনি সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের পূর্ণ বিবরণও তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। তাই এ রায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

দ্য ইনডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য–বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষ করে হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে। মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না; আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এই ইস্যুতে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবির বলেন, অপরাধীদের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থপাচার বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটি তালিকা যুক্তরাজ্য সরকারকে দেওয়া হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশ যদি যুক্তরাজ্যের সহযোগী হতে পারে, তাহলে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহযোগিতা আশা করা অযৌক্তিক নয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সম্প্রতি সাবেক বাংলাদেশি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী–সংশ্লিষ্ট ১৭ কোটি পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০০টি সম্পত্তি রয়েছে। এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্নীতির অর্থ পুনরুদ্ধারে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST