দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রতি অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।গতকাল পৃথক টেলিফোন আলাপে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর পরিমিতি, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের ফলে নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।’
প্রথমে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।
প্রধান উপদেষ্টাপরে শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামকে সাফল্যের জন্য এবং নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো একইভাবে সহযোগিতাপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার হাতে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তাও পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের কাছে পৃথকভাবে এ বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম গতকাল তিন নেতার হাতে এ বার্তা তুলে দেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলমের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
নির্বাচনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’
তিনি আরো লেখেন, ‘বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।’
জামায়াত আমিরের প্রতি নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা লেখেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোয়ও তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।’
পরিশেষে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’