যুদ্ধে রাশিয়া কীভাবে ইউক্রেনের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো সমানে তা প্রচার করে গেছে। পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়া কেমন বিপর্যয়ে পড়েছে তাও ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে যুদ্ধ যত পুরোনো হচ্ছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের লেখায়ও বেশ বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা কী আদৌ কাজ করছে? প্রধান মিডিয়াগুলোই এখন বলছে, রুশ অর্থনীতি আঘাতপ্রাপ্ত হলেও সেটি মোটেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে না, বরঞ্চ পশ্চিমা দেশগুলোও এখন ভুগতে শুরু করেছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ইকোনোমিক এডিটর ল্যারি এলিয়টের একটি লেখার কথা। তার ওই লেখার শিরোনাম ছিল, ‘রাশিয়া অর্থনৈতিক যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে এবং পুতিন শিগগিরই সেনা প্রত্যাহার করছেন না’। এতে এলিয়ট বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে গত তিন মাস ধরে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব।
কিন্তু পশ্চিমাদের পরিকল্পনা কাজ করছে না। বরঞ্চ পরিস্থিতি উল্টো তাদের জন্য খারাপ হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা যে কাজ করছে না তার প্রমাণ হিসেবে এলিয়ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইউক্রেনকে রকেট পাঠানোর ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করেন। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমাদের সামনে এখন একমাত্র আশা, ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি দেয়া হলে হয়তো রাশিয়া পিছু হটতে বাধ্য হবে।
সাইমন তার লেখায় বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বিশ্বে তেল ও খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে রাশিয়ার আয় কমার থেকে উল্টো বাড়ছে। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলো খাদ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তুলে ইউক্রেনকে সাহায্য করে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে গত ২৬শে মে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি রিপোর্টে ইউক্রেনের সেনাদের দুরাবস্থার কথা উঠে আসে। দিনে একটি আলু খেয়ে ইউক্রেনীয় সেনারা কীভাবে যুদ্ধ করছে সেটি প্রকাশ করা হয় ওই রিপোর্টে। এতে জানানো হয়, সেভেরোদনেতস্কের কাছে একটি ইউক্রেনীয় ইউনিট অর্ধেকেরও বেশি সেনা হারিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
মস্কোর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে তথ্যকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। ডিজিটাল গণতন্ত্র বিষয়ক এক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়- ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসার সঙ্গে আলাপকালে ব্লিঙ্কেন বলেন, তথ্যের গণতান্ত্রিকীকরণের বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রত্যাশিত হতে পারে না।
তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনের ক্ষেত্রেও আমরা এমনটা দেখতে পাচ্ছি।এর আগে ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে প্রবেশ করেছিল তখনও তারা তথ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে-যোগ করেন ব্লিঙ্কেন।
https://www.facebook.com/pundrotvbd/videos/973351979981547