1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
একজন মানুষ দিনে কতবার মোবাইল চেক করে? - Pundro TV
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন



একজন মানুষ দিনে কতবার মোবাইল চেক করে?

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

স্মার্টফোন এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় মানুষ অনেক বেশি সময় ফোনের স্ক্রিনে কাটাচ্ছেন, যা ধীরে ধীরে মনোযোগ, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বর্তমানে অনেকের দিনের শুরুই হয় মোবাইল ফোন হাতে নেওয়ার মাধ্যমে, আর দিনের শেষও হয় একইভাবে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই মানুষ কোনো না কোনোভাবে ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন।

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ফোন বারবার চেক করার প্রবণতাও। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী দিনে কয়েক ডজন থেকে শতাধিকবার পর্যন্ত ফোন দেখেন।

যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Tech21–এর এক জরিপে বলা হয়েছে, গড়পড়তা ব্যবহারকারীরা দিনে প্রায় ৮০ বার ফোন চেক করেন। আবার মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভিউড–এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ বার পর্যন্ত পৌঁছায়।

এছাড়া এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, অনেক তরুণ ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোন ব্যবহার শুরু করেন এবং সারা দিনে বারবার ডিভাইসটি পরীক্ষা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ সবসময় প্রয়োজনের কারণে ফোন চেক করেন না; অনেক ক্ষেত্রে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নতুন মেসেজ, নোটিফিকেশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আপডেট এসেছে কি না—এই কৌতূহল মানুষকে বারবার ফোনের দিকে আকৃষ্ট করে।

মনোবিজ্ঞানীরা এই আচরণকে ‘কমপালসিভ চেকিং’ বা বাধ্যতামূলক ফোন চেক করার প্রবণতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাদের মতে, বিভিন্ন অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ী আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে, যাকে ‘ডোপামিন রেসপন্স’ বলা হয়। এ কারণেই অনেকেই অজান্তে ঘন ঘন ফোন দেখতে থাকেন।

এর পাশাপাশি ‘ফোমো’ বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’—অর্থাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আলোচনায় পিছিয়ে পড়ার ভয়—মানুষকে আরও বেশি ফোন ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আচরণ চলতে থাকলে তা স্বয়ংক্রিয় অভ্যাসে পরিণত হয়। এমনকি কোনো নোটিফিকেশন না এলেও অনেকে অচেতনভাবেই ফোন আনলক করে স্ক্রিন দেখেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। কারণ পড়াশোনা, বিনোদন, যোগাযোগ ও গেমিং—সবকিছু এখন একই ডিভাইসে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে, কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন–এর বিভিন্ন গবেষণাতেও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, স্মার্টফোন নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং মূল বিষয় হলো এর ব্যবহার পদ্ধতি। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোন চেক করার অভ্যাস কমাতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক সময় মানুষ টেরই পান না, দিনের বড় একটি অংশ কেবল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই কেটে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST