জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও দেশ ছাড়ার তাগিদ দেন তারা। ফোন করেন একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও। তাদের একজন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাকে দ্রুত ‘সেফ জোনে’ যেতে কল করেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। আর সেই ফোনালাপটি উঠে এলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক জবানবন্দি গ্রহণের মুহূর্তে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমাতে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই বিষয়টি উঠে আসে।
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আসামি। তাদের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শেখ রেহানার একটি ফোনালাপ রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয় ট্রাইব্যুনালে। কথোপকথনের শুরু থেকেই সরকার পতনের মুহূর্তে শেখ হাসিনার এই উপদেষ্টাকে সরে যেতে তাড়া দেন শেখ রেহানা। ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই কথোপকথনে এসব কথাবার্তা উঠে আসে।
ফোনালাপের একপর্যায়ে শেখ রেহানা সালমান এফ রহমানকে বলেন, এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আর কি। ইউ শুড বি… মানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর আমি কনভিন্স করতেছি, মানে যা আছে ওটা করব আর কি। এখানে একদম থাকা সেফ না। তখন সালমান বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তা হলে ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?
এর পর শেখ রেহানা বলেন, ওইগুলো এখন বাদ দেন, ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি। এর পর সালমান বলেন, ওকে। শেখ রেহানা বলেন, জি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।
ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপের রেকর্ড বাজিয়ে শোনানোর সময় কাঠগড়ায় মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। এ সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা। এদিকে, আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও জেরার জন্য সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। পরে আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।