1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
বৈরী আবহাওয়াতেও বিপন্ন কৃষকদের বিপন্ন কৃষকদের - Pundro TV
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন



বৈরী আবহাওয়াতেও বিপন্ন কৃষকদের বিপন্ন কৃষকদের

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

এম. খছরু চৌধুরী

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট বিভাগের ছোট-বড় সব হাওর এই কয় দিনের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে কৃষকের পাকা ধান; স্বপ্ন! কী পরিমাণ ধান কাটা হলো, এর প্রকৃত তথ্য কৃষক ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, দপ্তর-পরিদপ্তর কেউই জানে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তো মনগড়া হিসাব দেয়। এমন কথা বলে, যা শোনার চেয়ে না শোনাই ভালো।

একটি স্বাধীন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নেন। কিন্তু সেই টাকা হালাল করতে নিজেদের যে কিছু কর্তব্য পালন করা দরকার, তাদের সে বোধটুকুও যেন হারিয়ে গেছে!

বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরুর আগেই (ঈদুল ফিতরের দুদিন আগে থেকেই) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনসহ হাওরসংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফসলের সুরক্ষা নিয়ে একাধিকবার কথা হয়েছে।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! যে দেশের রাজনীতিবিদরাই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নের চেয়ে অগ্রাধিকার দেন লুটেরা উন্নয়নকে, সে দেশের কর্মকর্তারা কথা শুনবেনই-বা কেন! একটি দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতির গঠন কাঠামোর ওপর ন্যূনতম জ্ঞান না রাখলে কি উন্নয়নের রাজনীতি জুতসই হয় বা হবে? হাওরের উন্নয়ন মানেই সরকারের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অথবা ফসল রক্ষা বাঁধ।

এর বাইরে কোনো ভাবনা তো দেখি না। বোরো ধান সুরক্ষার নামে উপরোক্ত উন্নয়ন ভাবনায় সুরক্ষার চেয়ে বরং বছর বছর সরকারি অর্থ লুটের মানসিকতা বেশি কাজ করে। একটি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমলা-ঠিকাদার থেকে শুরু করে এই লুটের ভাগ কে না পায়!
এ দেশের পরিবেশে কৃষিজ উৎপাদনের ইতিহাসই আদিম।

তখনও সেই সনাতনী ও আদিম যুগে মানুষ ফসল ফলাত পরিবেশের সঙ্গে সমন্বয় করে। বুঝতে হবে এর ধারাবাহিকতাই শুধু বহন করছি আমরা। ইতোমধ্যে কৃষিতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। প্রযুক্তির তোড়জোড়ে নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষ সবাই কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে একটি উদাহরণ দিই।১৯৭৬ সালে (মনু ও কুশিয়ারায় বাঁধ দিয়ে মনু সেচ প্রকল্প তখনও হয়নি) চৈত্র মাসের অতিবৃষ্টিতে কাউয়াদীঘি হাওরের বোরো ফসল উজানের ঢলে তলিয়ে যায়। থই থই পানিতে ভাসতে থাকে হাওর।

কৃষকের ফসল হারানোর বেদনাভরা বিষণ্ন মুখ, মাথায় হাত– এ যেন প্রকৃতি বা ঈশ্বরের কাছে বিরাট আর্তনাদ! সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়! একই সময়ে উজান এলাকার আত্মীয়স্বজন এসে বাঁশ দিয়ে মুরন বানিয়ে (এক ধরনের বাঁশের তৈরি চিরুনির মতো প্রযুক্তি) পানির নিচ থেকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ধান সংগ্রহ করে নৌকায় ভরে বাড়ি নিয়ে আসতে থাকেন। এতে নষ্ট ও অপচয় বাদ দিলেও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। এমন স্বেচ্ছাশ্রমে ছিল পারস্পরিক সহমর্মিতা, আন্তরিকতা।

অদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে থাকা প্রযুক্তি আমাদের কাণ্ডজ্ঞান কেড়ে নিয়েছে। প্রযুক্তি এখন আমাদের চিন্তাকে একপেশে করে দিয়েছে। আমরা এখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ বিবেচনায় রাখি না। সর্বোচ্চ মুনাফা আমাদের মগজ গ্রাস করে ফেলেছে। দরকারে অথবা অদরকারে কৃষিতে প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে হাওরাঞ্চলে না-আছে আগের মতো পর্যাপ্ত নৌকা; না-আছে শ্রমিক। সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব কর্মসূচির আন্তরিক প্রয়োগও নেই।

এটি যে ভাটির দেশ– আমরা কয়েক দশক আগে তা বেমালুম ভুলে গেছি। যে কারণে লাগসই প্রযুক্তিও হারিয়ে গেছে। এখনও সময় আছে কাউয়াদীঘি হাওরে তলিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহ এবং ইতোমধ্যে কৃষকের সংগ্রহকৃত ধান পচে যাওয়া থেকে বাঁচানোর। এ জন্য নিম্নরূপ উদ্যোগ জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি, কৃষি বিভাগ ও সরকার নিতে পারে।

(১) বাংলাদেশের বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে গৃহীত দ্বিতীয় বৃহত্তম মনু সেচ প্রকল্প একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। কুশিয়ারা নদীর পানি পরিমিত থাকলে এ প্রকল্পের কাশেমপুর পাম্প হাউসের আটটি পাম্প একসঙ্গে চালু করলে ভরা কাউয়াদীঘি হাওরও ৪৮ ঘণ্টায় শুকিয়ে ফেলা সম্ভব। পাম্প সচল রাখতে প্রয়োজনীয় তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির যুক্তি দেখিয়ে কোনো অবস্থাতেই জেলার ভাগের হিস্যা নামের শুভঙ্করের বিদ্যুৎ ভাগাভাগিতে পাম্প হাউসকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। (২) জেলা প্রশাসন ত্বরিত গতিতে চা-বাগান মালিক-ম্যানেজারদের সঙ্গে সমন্বয় করে চা-বাগানের পার্টটাইম শ্রমিক ও কর্মহীন শ্রমিকদের হাওরে এই আপৎকালে নিয়োগ করতে পারে।

(৩) রোদ না-থাকায় ইতোমধ্যে কৃষকের সংগ্রহকৃত বোরো ধানের গোলা কৃষকের
ঘর, আঙিনা ও রাস্তায় পচে যাওয়ার উপক্রম। জেলার সব কয়টি অটোরাইস মিল মালিককে নির্দেশ দিয়ে এই ধান দ্রুততার সঙ্গে চালে রূপান্তর করতে হবে।

এম. খছরু চৌধুরী: সদস্য সচিব, হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার
mkmchowdhury@gmail.com

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST