1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মতো হিন্দুরাও এবার দল বেঁধে ভোট দিচ্ছে - Pundro TV
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন



পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মতো হিন্দুরাও এবার দল বেঁধে ভোট দিচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সাইফুর তপন

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২০ | আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৩

ভারতের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বিশেষত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে কলকাতাভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইরাবতী রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টারের উপদেষ্টা। ১৯৯৫-২০২৩ সাল পর্যন্ত দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনে সাংবাদিকতা করেছেন; সর্বশেষ ছিলেন উপ-সম্পাদক। জেফারসন ফেলো প্রতিম বসু পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সমকালের সহকারী সম্পাদক সাইফুর তপন।

সমকাল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন চলছে; কেমন দেখলেন নির্বাচন?

প্রতিম রঞ্জন বসু: প্রথমত, এটা একটা ‘পাথব্রেকিং’ (নতুন পথনির্ধারণী) নির্বাচন। যে কোনো নির্বাচনে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়লে, এবার যেটা এখানে হয়েছে, সেটা বিরাট এক ঘটনা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনটা হচ্ছে একটা স্বচ্ছ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে। বিপুল সংখ্যক মৃত ভোটার আগের তালিকায় ছিল, যাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ সংখ্যা ৫৮ লাখ। তৃতীয়ত, এবারের ভোটটা সহিংসতামুক্ত।

পশ্চিমবঙ্গে এর আগের প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকালে এবং নির্বাচনোত্তর যত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সারাদেশে, তার ৬৪ শতাংশ ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে।
সমকাল: রাজনৈতিক সহিংসতার কথা বলছেন?

প্রতিম রঞ্জন বসু: সহিংসতা হলো সহিংসতা। রাজনৈতিক, না অন্য কিছু তা দেখার দরকার নেই। মোট কথা, পশ্চিমবঙ্গ হলো দেশের সবচেয়ে সহিংসতাপূর্ণ রাজ্য। অর্থাৎ চলমান নির্বাচন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, ভুয়া ভোটমুক্ত, যেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ বিরাট। এখানে আরেকটা বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

সমকাল: সেটা কী?

প্রতিম রঞ্জন বসু: সাধারণত আমাদের নির্বাচনগুলোতে মুসলমান ভোটার যারা, তারা দল বেঁধে ভোট দেন। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ৮৮-৯০ শতাংশ ভোট পড়ত। এ বছর হিন্দুরা একই তালে ভোট দিয়েছেন। মুসলিমদের মতো হিন্দুরাও এবার দল বেঁধে ভোট দেওয়ায় কাস্টিং নজিরবিহীন বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রায় ২০ লাখ বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

তারা প্রায় সবাই হিন্দু। ভোটিং প্যাটার্নে এটা এক বিরাট পরিবর্তন। মুসলিম ভোট আগে থেকেই অনেক বেশি ছিল; সেটা আর বাড়া সম্ভব না। আগে, ধরুন, মোট ভোট পড়ত ৮০ শতাংশ, যেখানে হিন্দু ভোট থাকত ৭৫ শতাংশ। মুসলিম ৮২-৮৩ হওয়ার কারণে গড় ভোট বেশি হতো। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ভোটব্যাংক যাদের বাক্সে যেত তারা লাভবান হতো। এখানে হিন্দু-মুসলিম অনুপাত ৭০-৩০। কিন্তু এবার সেটা ঘটবে না হিন্দু ভোট বেড়ে যাওয়ার কারণে।

সমকাল: তাহলে এবার ভোটের ফল গতবারের মতো হবে না; তাই তো?

প্রতিম রঞ্জন বসু: ভোটের ফল কী হবে, তা দেখতে হবে। তবে এটা ঠিক, বামফ্রন্ট যখন ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় এসে একটু স্থিত হলো, বিশেষত নব্বই দশকে তারা মুসলিম ভোটব্যাংক তৈরিতে মনোযোগ নিবদ্ধ করে। তার আগে, এমনকি বামফ্রন্টও যখন ক্ষমতায় আসে তখন এই ভোটব্যাংক রাজনীতি ছিল না। এককালে এরা জাতীয় কংগ্রেসকে ভোট দিত, পরে বামফ্রন্টকে দিয়েছে। আবার দুয়ের মধ্যে এ ভোট ভাগাভাগিও হয়েছে।

কিন্তু খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ভোটব্যাংক রাজনীতিতে বিনিয়োগ করতে শুরু করে বামেরা। পরবর্তী সময়ে এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে যায়। একটা উদাহরণ দিলে বুঝবেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটা জেলা পরিষদ দখল করে মমতার দল। সেটা দিয়েই মমতার পক্ষে পালাবদলের শুরু। এরপর তো নন্দীগ্রাম ইত্যাদি হলো।

রাজ্যের ক্ষমতায়ও এলেন। ২০১১ সালে মমতা ক্ষমতায় আসেন; ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর মমতা মুসলিমদের এক সভায় বলেন, ‘আপনাদের জন্যই আমি ক্ষমতায় আসতে পেরেছি।’ তখন বামফ্রন্টসহ অন্যরাও মাথায় টুপি চাপিয়ে ফুরফুরা শরিফে ভিড় করেছিল। মমতা পরবর্তী সময়ে এ ভোটটাকে নানা উপায়ে সুপার কনসলিডেটেড (সংহত) করেন।

সমকাল: এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কি এবার হিন্দু ভোট সংহত হচ্ছে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: আসলে হিন্দু ভোট সংহত হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে বরাবর নেগেটিভ ভোট হয়। লোকে কংগ্রেসকে তাড়িয়েছে, বামফ্রন্টকে তাড়িয়েছে, উল্টোটা সত্যি না– অর্থাৎ কাউকে আনার জন্য ভোট দিচ্ছে না তারা।

সমকাল: তাহলে বিজেপির উত্থান হলো কেন?

প্রতিম রঞ্জন বসু: মমতাবিরোধী ভোটটা যেহেতু হিন্দু ভোট, সেটা চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। তাই বিজেপির বিপুল উত্থান দেখছি আমরা। ধর্মীয় মেরূকরণটা করেছেন মমতা। এরই ফল এটা।

সমকাল: এবার কি তাহলে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান দেখে মমতা বুঝলেন– হিন্দু ভোট তাঁর কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। তখন তিনি সরকারি টাকায় মন্দির গড়া শুরু করলেন, যেটা ভারতের অন্য কোথাও ঘটেনি। এতে তিনি কতটা সফল হলেন– বোঝা যাবে ফল বেরোনোর পর। ১৯-২০ লাখ নতুন হিন্দু ভোটার, যারা আগে ভোট দিত না, এবার ভোট দিয়েছে। তবে কোথায় দিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

কারণ হিন্দু ভোটব্যাংক বলে কিছু নেই। এটা এখন পর্যন্ত সংখ্যাগুরুর ভোট। তবে যদি এ ভোটটা একযোগে কারও বাক্সে যায়, তখন হয়তো বলা যাবে হিন্দু ভোটব্যাংক।

সমকাল: এখানে বিশেষত মমতা মুসলিম তোষণ করছেন বলে বিজেপির যে লাগাতার প্রচারাভিযান, এর কোনো প্রভাব নেই?

প্রতিম রঞ্জন বসু: আছে; থাকতে পারে। মনে রাখতে হবে, ভারতবর্ষের দেশভাগ-উত্তর একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, তার আগে এ নামে কোনো রাজ্য ছিল না। এ রাজ্যের ১৯৮১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ২০ বছরে একটা অদ্ভুত ডেমোগ্রাফিক শিফট (জনমিতি পরিবর্তন) হয়। এর সঙ্গে অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ধারাবাহিক অবনতির কথাও মনে রাখতে হবে।

এখানে শিল্পবিরোধী একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। এগুলো পশ্চিমবঙ্গের এলিট বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত অংশ, যার মধ্যে আমিও পড়ি, মেনে নিতে পারে না। এমনকি কৃষির মজুরি, দিনমজুরের আয় পর্যন্ত অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেক কম। ফলে ওই যে একটা বিশেষ রাজনীতিকে ধরে রাখার চেষ্টা একটা বিশেষ গোষ্ঠী করছে, তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সমাজে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একে ভিত্তি করে বিজেপি কিছু রেটরিক (বাগাড়ম্বর) তৈরি করেছে, যার কিছু কিছু আবার অসত্য নয়।

সমকাল: আপনি বলছেন, মুসলিম ভোটব্যাংক ব্যবহার করে একটা ব্যর্থ সরকারের বারবার ক্ষমতায় ফিরে আসার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে…।

প্রতিম রঞ্জন বসু: এটা হতাশা। সম্মিলিত একটা হতাশা। কোনো কাজ না করে একটা সরকার মনে করছে, ৩০ শতাংশ ভোট আমার রিজার্ভ। আর ওদিক থেকে ১৫ শতাংশ নিতে পারলেই আবার ক্ষমতায় আমি। এটা হচ্ছে মূল রাজনৈতিক ইস্যু।

সমকাল: মুসলিম ভোটেও তো বিভাজনের কথা শোনা যাচ্ছে এবার। বলা হচ্ছে, এর সুবিধাভোগী হবে কংগ্রেস ও বাম।

প্রতিম রঞ্জন বসু: এটা হবে না বলে বিশ্বাস করি আমি। আর যদি হয়, তাহলে সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা হবে এটা। মুসলিম সমাজে হতাশা জন্ম নেওয়া কিন্তু উচিত। কারণ একটা কমিউনিটিকে নিছক ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; তাদের কোনো উন্নতি হয়নি। তাদের হতাশা যদি হিন্দুদের মতোই ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে শাসক বদল ঘটবে এবার।

এখানে যদি বিজেপিও ক্ষমতায় আসে; কাজ করতে না পারলে তাদেরও পাঁচ বছর পর চলে যেতে হবে– আমি এমন ব্যবস্থা চাই। একটা দল এলো, কোনো কাজ করল না, অথচ অনিয়ম, জালিয়াতি ইত্যাদির মাধ্যমে একটার পর একটা মেয়াদে ক্ষমতায় থাকল– এটা আমরা চাই না।

সমকাল: বাম-কংগ্রেসের আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন?

প্রতিম রঞ্জন বসু: পশ্চিমবঙ্গে ভোটটা হয় সব সময় বাইপোলার বা দুই মেরুর মধ্যে। এটাকে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী বানানো হয়, যা বাস্তবতা-বিবর্জিত। এটা শাসকেরাই করেন বিরোধী ভোট ভাগ করার লক্ষ্যে। এবার মুসলিম ভোট ভাগ হলে বাম ও কংগ্রেসের ঝুলিতে কিছু আসন যেতে পারে। না-হয় তা শূন্যই থাকবে।

সমকাল: পশ্চিমবঙ্গে এবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটে বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব কী হতে পারে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: কেন্দ্রে তো বিজেপি রয়েছেই; পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতায় বিজেপি এলে বাংলাদেশের চিন্তার কিছু আমি দেখি না। বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়াই তো ভারতের প্রয়োজন। আর পশ্চিমবঙ্গে যে কিছু বাংলাদেশি এলিমেন্ট আছে– তা তো অস্বীকার করা

যাবে না। বিশেষত শেখ হাসিনার সরকারের সময় একজন বাংলাদেশি সংসদ সদস্যকে এখানে এনে যেভাবে হত্যা করা হলো, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? আমরা সবাই চাই পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ হোক। আমার তো মনে হয়, এসব সমস্যা না থাকলে, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ভালো হলে বাংলাদেশের ভালো ছাড়া খারাপ কিছু হবে না।

সমকাল: এবার যারা ভোটার তালিকায় স্থান পেলেন না, বিশেষত মুসলিমরা, তাদের ভবিষ্যৎ কী?

প্রতিম রঞ্জন বসু: আপনি সম্ভবত একটা প্রশ্ন করতে গিয়েও করলেন না। সেটা হলো, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসী বলে যাদের ধরা হচ্ছে বা হবে, তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে কিনা। এটা অবাস্তব আশঙ্কা। বৈদেশিক সম্পর্ক বলে একটা কথা আছে, যার মধ্যে আমরা সবাই বাস করি।

সমকাল: বাংলাদেশের তো বড় চিন্তা পানি নিয়ে। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির হিস্যা কি পাবে বাংলাদেশ?

প্রতিম রঞ্জন বসু: গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দুই তরফেই কিছু অসত্য ও অতিরঞ্জিত বয়ান ও তথ্যের চর্চা আছে। এ ক্ষেত্রে যে চুক্তিটা আছে তা বিশ্বের একমাত্র ব্যতিক্রম চুক্তি। এখানে ৩০ বছরের জন্য একটা ন্যূনতম পরিমাণ পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া আছে। কিন্তু আমি জানি না, নদীর প্রবাহ কখন কতটা থাকবে– নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। এখানে বড় সমস্যা অ্যাডহকিজম। তিস্তাও এ চক্রে পড়ে গেছে।

সমকাল: তিস্তা চুক্তি হতে গিয়েও হলো না মমতার বাধার কারণে। বিজেপির অবস্থান কী হতে পারে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: দেখুন, তখন শেখ হাসিনা শুষ্ক মৌসুমে জলের গ্যারান্টি চেয়েছিলেন, যা সম্ভব ছিল না। কারণ শুষ্ক মৌসুমে জলই থাকে না তিস্তায়। এখন এসব ঠিক করতে হবে। আর মমতা যখন বাধা দিয়েছেন তখন কতগুলো রেটরিক তিনি ব্যবহার করেছেন। তাতে জটিলতা বেড়েছে। তবে কেন্দ্র যে তাঁকে পাশ কাটিয়ে চুক্তি করতে গেল, তা একেবারেই ঠিক হয়নি। জল বণ্টন চুক্তি হতে গেলে এখানে অনেক কিছু আমাদের দিকেও বদলাতে হবে।

সমকাল: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: আপনি যাকে সীমান্ত হত্যকাণ্ড বলছেন, সেটা বন্ধে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে দুই দেশেরই সমান অংশগ্রহণ লাগে। যেমন সীমান্তের এপারে ১৫০ গজ এবং ওপারে ১৫০ গজ মোট ৩০০ গজ হলো নোম্যান্স ল্যান্ড। আমরা কাঁটাতার তুলেছি ওই ১৫০ গজ ছেড়ে; কিন্তু বাংলাদেশ অংশের অনেক স্থানে মানুষ কাঁটাতার ঘেঁষে ছবি তোলে, ঘুরে বেড়ায় ইত্যাদি। এ ব্যবস্থাপনা করার কথা আপনাদের বিজিবির।

তবে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড অনেক কমেছে গত কয়েক বছরে। সীমান্তে ফ্লাডলাইট বসানো শেষ হলে তা আরও কমবে। কারণ ঘটনাগুলো ঘটে অন্ধকারে, যখন ভারতের নিরাপত্তারক্ষীরা কী ঘটছে তা দেখতে না পেয়ে গুলি ছোড়ে। মনে রাখবেন, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সবচেয়ে স্ট্র্যাটেজিক রাজ্য, যেখানে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেশি। কারণ উত্তর-পূর্বাংশ ভারতের ৮ শতাংশ ভূমি ধারণ করে; তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে।

সমকাল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন ঘটলে বাংলাদেশের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

প্রতিম রঞ্জন বসু: সে ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে কেন্দ্রীয় চাপ আরও বাড়বে, তা নিশ্চিত।

সমকাল: এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না? কিছুদিন আগে তো এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী লোককেও ধরে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হলো।

প্রতিম রঞ্জন বসু: এগুলো ছোটখাটো বিষয়। বড় আকারে এখান থেকে অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া অসম্ভব। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ভারতের জন্য জরুরি।

সমকাল: ধন্যবাদ আপনাকে।

প্রতিম রঞ্জন বসু: সমকালকেও ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST