1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
মিত্রদের ‘না’, হরমুজ ঘিরে যুদ্ধ নিয়ে বিপাকে ট্রাম্প - Pundro TV
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন



মিত্রদের ‘না’, হরমুজ ঘিরে যুদ্ধ নিয়ে বিপাকে ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। মার্কিন রাজনীতিবিদরা এ যুদ্ধ তাদের নয় মন্তব্য করে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর তাদের ঝোড়ো প্রতিক্রিয়া রুখতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তেহরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। মাঠে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ফল না আসা, বেসামাল তেলের বাজার আর যুদ্ধের অতি ব্যয় নিয়ে ভয়াবহ চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। এ পরিস্থিতি সামলাতে হরমুজ সচল করার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো হলেও মিত্ররা ওয়াশিংটনকে না বলে দিয়েছে। তেহরানের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও গ্রিস। এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করলে দ্রুত জবাব দিতে শুরু করে তেহরান। প্রথম দিকে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের বাহিনী। পরে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম বৈশ্বিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী ওই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের মোট ২০ শতাংশ ও এলএনজির ২৫ শতাংশ যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম বিশ্বজুড়ে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে দেশে ও বিদেশে ভয়াবহ চাপে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে গত শনিবার ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ মিত্রদের সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজে নৌপথের সুরক্ষায় রণতরি পাঠানোরও আহ্বান জানান তিনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না।

এর এক দিন আগে সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলো যদি এ অঞ্চলে সামরিক সহায়তা না দেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে ব্রিটেন কোনো সংঘাতের অংশ হবে না।

ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে জার্মানি। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জার্মানি এ যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার কোনো অভিযানেও যোগ দেবে না।

তিনি বলেন, যতদিন এ যুদ্ধ চলবে, জার্মানি কোনোভাবেই এতে অংশ নেবে না। এমনকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার কোনো প্রচেষ্টাতেও আমাদের অংশগ্রহণ থাকবে না।

একইভাবে গ্রিসও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন গ্রিক সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস।

জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও বলে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ পাহারা দিতে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনাই তাদের নেই।

গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মধ্যপ্রাচ্যে নৌযান পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের দেশের।

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অস্ট্রেলিয়াও বলেছে, হরমুজ খুলতে সহায়তার অংশ হিসেবে তারা কোনো নৌযান পাঠাবে না।

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য

ক্যাথেরিন কিং বলেন, ‘আমরা জানি এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এমন কিছু করতে আমাদের অনুরোধও করা হয়নি, কিংবা আমরা করবোও না।’

এর মধ্যে ন্যাটোকে ট্রাম্প হুমকি বলেছেন, এ সামরিক জোট তাদের এ কাজে সহায়তা না করলে ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে। এর মধ্যে চীনের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিং কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংগিউ বলেছেন, স্থিতিশীল ও বাধাহীন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। উত্তেজনা কমিয়ে আনতে চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল শিক্ষা পেয়েছে, বললেন আব্বাস আরাগচি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যতদূর প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এখন তারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) একটি ভালো শিক্ষা পেয়েছে এবং বুঝেছে, তারা কেমন জাতির বিরুদ্ধে লেগেছে। ইরানিরা এমন এক জাতি যারা আত্মরক্ষা করতে দ্বিধা করে না; যারা প্রস্তুত থাকে যে কোনো স্থানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যত দূর পর্যন্ত তা প্রয়োজন হয়।’ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, শত্রুদের জন্য এ প্রণা

বন্ধ থাকবে।

তেহরানসহ তিন শহরে হামলা: ইরানের তেহরান, শিরাজ এবং তাবরিজে বড় পরিসরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

ইরানের রাজধানী তেহরান দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। তাবরিজ দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর, যা দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। তাবরিজের অবস্থান তুরস্ক, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান সীমানার কাছে। আর শিরাজ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সোমবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে তারা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যবহৃত উড়োজাহাজটি ধ্বংস করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ৩৩৬৯ ইসরায়েলি আহত: যুদ্ধ শুরুর পর হামলায় ৩ হাজার ৩৬৯ ইসরায়েলে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ১৪২ জন। সোমবার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৩ হাজার ৩৬৯ জন বেসামরিক এবং সামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলায় ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে, দাবি ইসরায়েলের: ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার বলেছেন, চলমান যুদ্ধে আগামী কয়েক দিনে উত্তেজনা বাড়তে পারে। সে জন্য তার দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে।

মার্কিন রণতরিকে সহায়তা করা যে কোনো কেন্দ্র হামলার নিশানা হবে, ইরানের হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে সহায়তা করা যে কোনো কেন্দ্র ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র রোববার এই হুমকি দেন। তিনি বলেন, লোহিত সাগরে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের উপস্থিতি ইরানের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

সৌদি-আরব আমিরাতে হামলা: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দেড় ঘণ্টায় ৩৭টি ড্রোন ধেয়ে গেছে। তবে সেসব ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভ্রমণকারীদের তাদের ফ্লাইটসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার: ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে এ সংঘাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে।হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট রোববার সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে এই তথ্য দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST