ঈদে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের জায়গা শিশুদের পোশাক ঘিরে। রাজধানীর মার্কেটগুলোতে নানা রঙের ও বিভিন্ন ডিজাইনের শিশুদের পোশাক সবার নজর কাড়ছে। ঈদ মানে শুধু কেনাকাটা নয়, আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া এবং সাধ্যমতো পরিবারের সব সদস্যের আবদার পূরণ করা। ঈদ আনন্দে বাবা-মায়ের কাছে সন্তানদের সেই আবদার যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। সন্তানদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে বাবা-মায়েরাও ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের ফেলে আসা শৈশবে। তবে শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেশী। রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা যায় ঈদের কেনাকাটায় পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুরাও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দেখছেন তাদের পছন্দের জিনিসগুলো।
ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা এক মা জানান নিজের শৈশবের গল্প। তিনি বলেন, ছোটবেলায় ঈদ এলেই মা সব সময় আমাকে সাদা রঙের জামা কিনে দিতেন। আমি অন্য রঙের জামা নিতে চাইলেও তিনি নিজের পছন্দের জামাই কিনে দিতেন। আজকে আমি আমার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে এসেছি, এখন বুঝতে পারি মা হিসেবে ঈদের কেনাকাটায় তিনি যে সিদ্ধান্ত নিতেন তা সঠিক ছিল।
ছোট্ট ছেলে রোহানকে নিয়ে আসা তার বাবাও জানালেন নিজের অনুভূতির কথা। তিনি বলেন, সন্তানকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। আমিও একসময় বাবার সঙ্গে মার্কেটে আসতাম। মার্কেটের ভিড় আর নতুন জামার মিষ্টি গন্ধ খুব উপভোগ করতাম। সন্তানকে দেখে আজ সেসব স্মৃতি খুব মনে পড়ছে।
শিশুদের পোশাকে বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদে দোকানগুলোতে নজরকাড়া সব নতুন পোশাক উঠেছে। গ্রাহকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সন্তানদের জন্য সেসব পোশাক কিনছেন। লাল, নীল, বেগুনি বা মিষ্টি রঙের পোশাক বেশি পছন্দ করছেন বাবা-মায়েরা। অন্যদিকে, নকশা ভেদে শিশুদের আবদারেরও কোনো কমতি নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ওপর সারি সারি জুতার দোকান, ভ্যানে সাজানো শার্ট-প্যান্ট, শিশুদের ফ্রক, থ্রিপিস, টি-শার্টÑ সবকিছুতেই ঈদের ছোঁয়া। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো জায়গা নেই। ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগোতে হয়। কেউ দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের কাপড় হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেলাইবড় বড় শপিং মলের তুলনায় এখানে ভিড় যেন আরও বেশি। কারণ একটাই দাম তুলনামূলক কম, আর দরদামের সুযোগ আছে। গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের পাশে রাস্তার একপাশে কাগজে মোড়ানো ছোট্ট একটি দোকানে নতুন কাপড় তুলেছেন রাজিব মোল্লা। মাথার ওপরে অস্থায়ী ছাউনি, সামনে সাজানো বিভিন্ন রঙের শার্ট ও পাঞ্জাবি। তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে নতুন মাল তুলছি। আগে শীতের কিছু মাল ছিল, সেগুলা কিছু আছে। এখন গরমের কালেকশন বেশি রাখছি। ২০ রমজান চলে গেছে, তাই মানুষজনও বেশি আসতেছে। বিক্রিও ভালো
ক্রেতাদের ভিড়ের মধ্যে দেখা যায় রমেজ উদ্দিনকে। হাতে একটি কালো রঙের জুতা নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছেন। পেশায় দারোয়ান। স্ত্রী ও সন্তানের জন্য জুতা কিনতে এসেছেন। অনেকটা সময় দরদামের পর ১০০ টাকা কমিয়ে দুই জোড়া জুতা ৭০০ টাকায় কিনলেন। খানিকটা আক্ষেপের সুরে বললেন, ঈদ আসছে বলে দাম বেশি চায়। প্রায় ১৫০ টাকা বেশি মনে হয় দিছে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করে নাতির জন্য নতুন জামা কেনার আনন্দ লাইলা বেগমের চোখে মুখে। জানালেন, যেখানে কাপড় পছন্দ হয়, সেখানে দাম বেশি। আবার যেখানে দাম মেলে, সেখানে রঙ বা কাপড় ভালো লাগে না। চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের দোকানি আরিফুল ইসলাম বলেন, বিক্রি মাত্র শুরু হচ্ছে। এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়বে আশা করছি। মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
।