বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধজাহাজ বা রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং দেশটির একটি সরকারি বেতার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মুহূর্তে ওই জলপথে সামরিক শক্তি মোতায়েন করার বিষয়ে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই এবং এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অনুরোধও তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং তাঁর বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাঁদের সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সীমাবদ্ধ। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম ও সহায়তা বজায় রাখছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিক বসবাস করায় তাঁদের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিমান সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির সংকটে সরাসরি কোনো সামরিক জাহাজ মোতায়েনের সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথটি সচল রাখতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে জাপানও একইভাবে এই অঞ্চলে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। একের পর এক মিত্র দেশগুলোর এমন নেতিবাচক সাড়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের প্রচেষ্টা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার সম্মুখীন হলো।