1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
ঈমানের পর মানুষের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি - Pundro TV
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন



ঈমানের পর মানুষের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

মানুষের জীবনে ঈমানের পর যে নিয়ামতটি সবচেয়ে মূল্যবান, তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা, সুস্থতা ও সুরক্ষা। মানুষ যত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা খ্যাতিই অর্জন করুক না কেন, যদি তার জীবনে প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও আল্লাহর হিফাজত না থাকে, তবে সে প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারে না। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-

 أَنَّ مُعَاذَ بْنَ رِفَاعَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ بَكَى فَقَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الأَوَّلِ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ بَكَى فَقَالَ ‏ “‏ سَلُوا اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فَإِنَّ أَحَدًا لَمْ يُعْطَ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْعَافِيَةِ ‏”‏ ‏.

মুআয ইবনু রিফাআহ (রহ.) থেকে তার বাবার বরাতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবু বকর সিদ্দীক (রা.) মসজিদে নববীর মিম্বারে দাঁড়ালেন, তারপর কেঁদে দিলেন।তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গত বছর এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে কাঁদেন, তারপর বলেন, আল্লাহ তাআলার কাছে তোমরা ক্ষমা, শান্তি ও হিফাজত প্রার্থনা করো। কেননা ঈমানের পর তোমাদের কাউকে শান্তি ও হিফাজতের চেয়ে বেশি উত্তম আর কিছুই দেওয়া হয়নি। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৫৮)

এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরেছেন। ঈমান মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ, কিন্তু ঈমানের পর মানুষের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান নিয়ামত হলো ‘আফিয়াত’—অর্থাৎ শান্তি, নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং আল্লাহর বিশেষ হিফাজত।কারণ মানুষের জীবন নানা বিপদ, রোগ, সংকট ও ফিতনার মধ্য দিয়ে পরিবেষ্টিত। যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে আফিয়াত দান করেন, তবে সে দুনিয়ার বহু বিপদ থেকে রক্ষা পায় এবং ইবাদত-বন্দেগিও স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারে।

আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর কান্না এই কথার গুরুত্বকে আরো গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলে। তিনি স্মরণ করছিলেন সেই মুহূর্তকে, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে উম্মতকে এই দোয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন।এতে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা (মাগফিরাত) ও আফিয়াত প্রার্থনা করা মুমিনের জীবনের একটি স্থায়ী আমল হওয়া উচিত। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে এবং তাঁর হিফাজতে থাকে, তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই কল্যাণময় হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST