স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটার অংশ গাইবান্ধা জেলায় বিস্তৃত। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় উড়ালসড়ক ও ছয় লেন সম্প্রসারণ কাজ চলছে। ২০১৮ সালে সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওয়ানাল ইকোনমিক করপোরেশন-এর আওতায় এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে চীনের চায়না স্টেট কনষ্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। কাজ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হলেও নির্ধারিত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকা সত্ত্বেও এখনও সমাপ্ত হয়নি।সরেজমিনে দেখা যায়, উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের জন্য সড়কের মাঝ বরাবর বেশ কিছু অংশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর দুইপাশে সরু সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নির্মাণকাজের জন্য বালু স্থুপ রাখা থাকায় যানবাহনের গতি অনেক ধীর। ফলে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন গোবিন্দগঞ্জে এসে আটকে যাচ্ছে।
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলাম জানান, “প্রায়ই যানজটের কারণে গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আসন্ন ঈদে যানজট আরও ভয়াবহ হতে পারে।” ব্যবসায়ী সোলায়মান সরকার জানান, ঈদুল ফিতরের আগে বাড়ি ফেরা মানুষের সঙ্গে মহাসড়কের নিয়মিত যানবাহন ও বাড়তি চাপ মিলিয়ে যানজট সৃষ্টি হবে।
বাস চালকরা জানান, এই অংশে উভয় দিক থেকে আসা যানবাহনের চাপ প্রচণ্ড, আর ঈদে ঘরে ফেরত আসা প্রাইভেট গাড়ি, মোটরসাইকেল ও শ্রমিকদের পরিবহন ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এছাড়া সড়কের ধারে অপেক্ষমান রিকশা ও অটোরিকশাও যান চলাচল ধীর করে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশ এবং আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকসহ সমন্বিত ১০টি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ঈদে যানজট রোধে পুলিশের ৩০–৪০ জন সদস্য গোবিন্দগঞ্জে মোতায়েন থাকবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ঈদুল ফিতরের সময় (১৫ থেকে ২৫ মার্চ) গোবিন্দগঞ্জে ছয় লেন ও উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ চৌরাস্তার পুলিশ বক্স স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে।