ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের উত্তাপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন পাঠিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন-এর একটি প্রতিনিধি দল। সিএনএন-এর সিনিয়র সাংবাদিক ফ্রেড প্লিটজেন তেহরান অভিমুখে যাত্রাপথে লক্ষ্য করেছেন যে, নিরাপত্তার খাতিরে দেশটির মহাসড়কগুলোতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং তল্লাশি চৌকির (চেকপোস্ট) সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। একদিকে যেমন নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে। ইরানও পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলার মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। সিএনএন-এর এই সরেজমিন প্রতিবেদন বলছে, সম্মুখ সমরে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও ইরানের রাজপথ এখনো শান্ত এবং জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে।
সচল হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম : চলমান মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের মধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আগামীকাল রোববার থেকে তেহরান প্রদেশের সমস্ত মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং নির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মাত্র ২০ শতাংশ কর্মী সশরীরে অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ পরিচালনা করবেন।ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তেহরান প্রদেশের সকল নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী বর্তমানে সশরীরে অফিসে আসার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে ‹রিমোট ওয়ার্ক’ বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে কাজ করবেন। জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক খোলা রাখা হবে। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশনাল ইউনিটগুলো এই ২০ শতাংশের সীমাবদ্ধতার আওতামুক্ত থাকবে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তেহরান প্রদেশের সকল স্তরের ব্যবস্থাপক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যে হামলা চালানো হয়েছে, তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই প্রশাসনিক এই সচলতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : সিএনএন, আল-জাজিরা।