দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে নতুন এক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তারের পর এবার ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমনের নামে ইকুয়েডর উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডর সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনারা।হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গোলার্ধের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আপস করবে না। ট্রাম্পের নতুন নীতি অনুযায়ী মাদক পাচারকে এখন আর সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বড় মাদক কার্টেলগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলা চালানোর আইনি সুযোগ পাচ্ছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এই অভিযানকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দাবি করলেও, বিশ্লেষকরা একে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন। মেক্সিকো মার্কিন সেনাকে জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরকে তাদের সামরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জলযানে অন্তত ৪৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকের পরিবার দাবি করেছে যে তারা সাধারণ মৎস্যজীবী ছিলেন, যা নিয়ে সমালোচকরা এই ঘটনাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। ইকুয়েডরের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ট্রাম্পের এই ‘লোহার মুষ্টি’ নীতিকে স্বাগত জানালেও, দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ড্রোন নজরদারি ও হেলিকপ্টারের মহড়া ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।ইকুয়েডরের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। মাত্র দুই মাস আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন কারাগারে বন্দি করার ঘটনার ধারাবাহিকতাই এটি। ইকুয়েডর একসময় শান্তির দ্বীপ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে কোকেন পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের আকাশ থেকে ইকুয়েডরের সমুদ্রসীমা পর্যন্ত ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ও নতুন যুদ্ধ-ফ্রন্ট বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।