যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আজ (৪ মার্চ ২০২৬) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযানের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশনের ওপর ভোট হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি সিনেটর টিম কেইন (ডি-ভার্জিনিয়া) এবং র্যান্ড পল (আর-কেনটাকি)-এর যৌথ উদ্যোগে আনা হয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশনের আওতায় প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক হামলা বা যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, যদি না কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা সুনির্দিষ্ট অনুমোদন দেয়। এটি কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা যুদ্ধ ঘোষণার একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রাখে।সাম্প্রতিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা (বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ) এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই ভোটের গুরুত্ব বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এটিকে অবৈধ বলে অভিহিত করে দ্রুত ভোটের দাবি জানিয়েছেন। সিনেটর কেইন বলেছেন, “সংবিধান অনুসারে যুদ্ধ ছাড়া কংগ্রেসের ভোট ছাড়া হওয়া উচিত নয়। সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে, তাই অবিলম্বে ভোট দিতে হবে।”তবে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে (৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা) অন্তত পাঁচজন রিপাবলিকানের সমর্থন দরকার, যা পূর্ববর্তী ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত রেজোলিউশনে (জানুয়ারি ২০২৬) দেখা গেছে যে হোয়াইট হাউজের চাপে অনেকে অবস্থান বদল করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি ভেটো দেবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ভেটো ওভাররাইডের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬৭ ভোট) দরকার, যা অসম্ভব।একই সঙ্গে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও অনুরূপ প্রস্তাব (রো খান্না ও টমাস ম্যাসি-এর নেতৃত্বে) ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে, যা এ সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এই ভোটগুলো প্রতীকী হলেও কংগ্রেসের যুদ্ধক্ষমতা পুনরুদ্ধারের দাবি ও ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সামরিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অবস্থান স্পষ্ট করে।