একান্তই ভিডিও পাবলিশারের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও মতামত, এটি দৈনিক ইনকিলাবের কোন মতামত নয়।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। তবে এই মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। খলিলুর রহমান এর আগে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ
সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাকে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারে সরাসরি মন্ত্রী হিসেবে দেখা যায়নি। আইনিভাবে প্রশ্ন উঠছে যে, একজন ব্যক্তি যিনি নির্বাচনকালীন সরকারের অংশ ছিলেন, তিনি কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সরকারের অংশ হতে পারেন? এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এবং কোনো “গোপন মেকানিজম” বা লবিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামও।
আলোচনায় উঠে এসেছে খলিলুর রহমানের বিদেশি (মার্কিন) পাসপোর্টধারী হওয়ার বিষয়টি। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকরা সংসদ সদস্য বা নীতিনির্ধারক হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, যদি তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে থাকেন, তবে এই নিয়োগ সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন। এছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ভূ-রাজনীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, তাকে নতুন সরকারে রাখা ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ তৈরি করে।
ভিডিওতে ড. ইউনূসের সাথে বিএনপির লন্ডন বৈঠকের প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বৈঠকেই খলিলুর রহমানের নিয়োগ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে। তবে মনজিল মোরসেদ মনে করেন, এটি বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক “দুর্বলতা” হিসেবে দেখা দিতে পারে, কারণ এটি জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যে কাউকে মন্ত্রী নিয়োগের এখতিয়ার রয়েছে, কিন্তু খলিলুর রহমানের এই বিশেষ নিয়োগটি নৈতিকতা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। এটি ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী “নতুন বাংলাদেশের” স্বচ্ছতার ওপর একটি প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
মনজিল মোরসেদ আরো বলেন ড. ইউনূস সাহেব লন্ডনে গিয়ে বিএনপির সাথে কেন দেখা করলেন? কারণ তিনি বুঝেছিলেন নির্বাচন দিতে হবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। সেখানে খলিলুর রহমানও ছিলেন। আন্ডার-টেবিল কী আলোচনা হয়েছে তা জানি না, কিন্তু জনগণের মনে প্রশ্ন উঠছে—একজন উপদেষ্টা কীভাবে সরাসরি মন্ত্রী হন? তার করা গোপন চুক্তিগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
নবনীতা চৌধুরী প্রশ্ন করেন তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ? যেখানে ছাত্র উপদেষ্টারা নিরপেক্ষতার স্বার্থে পদত্যাগ করেছেন, সেখানে খলিলুর রহমানের এই নিয়োগ কি বৈধ?
মনজিল মোরসেদ উত্তরে বলেন এটি নজিরবিহীন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কেউ পরে মন্ত্রী হতে পারেন না কারণ এতে প্রশ্ন ওঠে যে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই দলের জন্য কোনো কাজ করেছেন কি না। এছাড়া তার বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে। বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে তিনি আমাদের দেশের আইনপ্রণেতা হতে পারেন না। এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আলোচনায় আরো উঠে আসে খলিলুর রহমান আগে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) তে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকায় বাধা এসেছিল। কিন্তু এখন তিনি সরাসরি মন্ত্রী। তিনি কি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন? এই জবাব বিএনপিকে দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন এ বিশিষ্ট আইনজীবী।