রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী খাবেন—এ প্রশ্নের উত্তরে পুষ্টিবিদরা এক কথায় বলেন, মৌসুমি ফল রাখুন প্রথম সারিতে। কারণ মৌসুমি ফল শুধু টাটকাই নয়, এগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।
১. তরমুজ
প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ তরমুজ সারাদিনের পানিশূন্যতা কাটাতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে ১–২ টুকরো তরমুজ শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে এবং সতেজ অনুভূতি দেয়।
২. কলা
সহজলভ্য ও শক্তিদায়ক ফল কলা। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পেশির দুর্বলতা কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
৩. পেঁপে
হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য আরামদায়ক। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।
৪. আনারস
ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস হজমে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
৫. ডাবের পানি ও মাল্টা
ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে কার্যকর। মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
কেন মৌসুমি ফলই সেরা?
মৌসুমি ফল সাধারণত বেশি টাটকা থাকে, কম সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসে এবং পুষ্টিমান তুলনামূলক ভালো থাকে। এতে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভারসাম্য থাকে, যা রোজা ভাঙার পর শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ভাজাপোড়া দিয়ে ইফতার শুরু না করে ফল দিয়ে শুরু করলে হজম ভালো হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
সুতরাং, ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলেই মিলবে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা—তিনটিই একসঙ্গে।