ইউরোপ এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ তারা আর পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে চায় না। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পর ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বড় পরিবর্তনের মধ্যে আছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে মার্কো রুবিও ইউরোপকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তার বক্তব্যে ন্যাটো, রাশিয়া বা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ফলে ইউরোপের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।
ইউরোপের নেতারা এখন যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফ্রিডরিখ মের্ৎস, এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ইউরোপকে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। জার্মানি ও ফ্রান্স ইউরোপের জন্য একটি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। বর্তমানে ইউরোপে স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরক্ষা আছে শুধু ফ্রান্সের।
রাশিয়ার হুমকির কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে। ন্যাটো সদস্যরা প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২% থেকে বাড়িয়ে ৩.৫% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশ যৌথভাবে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্প শুরু করেছে।সম্মেলনে ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত মাসেই ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পথে এগোচ্ছে।