তাইওয়ানের সঙ্গে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ হয়েছে। একই সঙ্গে সব মার্কিন পণ্য থেকে ধাপে ধাপে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমাতে সম্মত হয়েছে স্বশাসিত দ্বীপটি। খবর রয়টার্সইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৯ সালের মধ্যে তাইওয়ান উল্লেখযোগ্য হারে মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়াবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারের এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলারের বেসামরিক উড়োজাহাজ ও ইঞ্জিন এবং ২ হাজার ৫২০ কোটি ডলার মূল্যের বিদ্যুৎ গ্রিড সরঞ্জাম, জেনারেটর, সামুদ্রিক ও ইস্পাত উৎপাদন সরঞ্জাম।
গত মাসে প্রাথমিক বাণিজ্য কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত করে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান। ওই চুক্তিতে তাইওয়ানের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ২০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে এশিয়ার রফতানি খাতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সমপর্যায়ে অবস্থান করছে তাইওয়ান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তাইওয়ানের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের জন্য এখন একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। পরিবর্তনের হাওয়ায় ভর করে বড় ধরনের রূপান্তরের পথে এগোনোর সুযোগ এসেছে।’
তার মতে, এ চুক্তি তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কাঠামোকে আরো কার্যকর করবে। নির্ভরযোগ্য শিল্প সরবরাহ চেইন গড়ে তুলবে এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
তাইওয়ান দুই হাজারের বেশি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানীকৃত পণ্যের ওপর গড় শুল্ক কমে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে জানান লাই চিং-তে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে তাইওয়ানের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। আর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ হলো বিরোধী দল।
কাঠামো চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তাইওয়ানের কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে উৎপাদন বাড়াতে ২৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এরই মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, তাইওয়ান সরকার আরো ২৫ হাজার কোটি ডলার মার্কিন বিনিয়োগের গ্যারান্টি দেবে।
ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, গত বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১২ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৪ সালের পুরো বছরে তা ছিল ৭ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো তাইওয়ান থেকে উচ্চমানের এআই চিপ আমদানিতে বড় উল্লম্ফন।