1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা , লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ : আইজিপি - Pundro TV
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন



নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা , লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ : আইজিপি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহারুল আলম এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আইজিপি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’

নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তরে পরিচালিত হবে বলে জানান বাহারুল আলম। তিনি বলেন, প্রথমত, দেশের মোট ৮৩ হাজার ৭৮৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে স্ট্যাটিক ফোর্স মোতায়েন থাকবে, যাতে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি এলাকায় মোবাইল পুলিশ টিম থাকবে, যারা নিয়মিত টহল দেবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এ ছাড়া জেলা পুলিশ সুপাররা তাঁদের কাছে থাকা ড্রোন ক্যামেরা সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করবেন। নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুলিশের মোটসদস্য সংখ্যা হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩। এর মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক স্ট্যাটিক ফোর্স, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এ ছাড়া থানাভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োজিত থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাহারুল আলম। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থানায় জমা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, সর্বোপরি আনসার বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত সবচেয়ে বড় সংখ্যার বাহিনী হচ্ছে আনসার। এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।

রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সব বাহিনীর সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা।’

তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে আইজিপি বলেন,আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৬০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ৫ জন। আমরা মনে করি, প্রতিটি মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। আমরা সব ধরনের সহিংসতা কমিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কতটা সফল হয়েছি, তা আপনারা এবং দেশের জনগণ মূল্যায়ন করবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST