1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
গোপালগঞ্জে ৯৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ - Pundro TV
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন



গোপালগঞ্জে ৯৭ শতাংশ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গোপালগঞ্জে তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৯৭টি। এর মধ্যে ৩৮৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস, যা মোট কেন্দ্রের ৯৭ শতাংশ। তবে কেন্দ্রের ঝুঁকিসংক্রান্ত তথ্য অফিশিয়াল ক্রাইটেরিয়ার অংশ বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। সব ভোট কেন্দ্রই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত বলে জানিয়েছেন তিনিপুলিশ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। জেলার কোনো কেন্দ্রকেই ঝুঁকির বাইরে দেখছে না তারা। দূরত্ব, দুর্গমতা ও পূর্বের সহিংসতার ইতিহাস বিবেচনায় মোট ভোট কেন্দ্রের ৪৮টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ঝুঁকির বাইরে রয়েছে মাত্র ১২টি কেন্দ্র। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি, গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ১০৮টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন অফিস। এসব ভোট কেন্দ্রে জেলার ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬১৮ জন ভোট দেবেন।

তবে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ভোটগ্রহণের দিন সহিংসতার আশঙ্কায় কেন্দ্রে না যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার অনেকে ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘রাস্তাঘাটে মানুষকে আলোচনা করতে শুনেছি ভোট কেন্দ্রে গণ্ডগোল হতে পারে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই। এখানে তো তারাই বেশি, তাই “‍ঝামেলা” হতে পারে। আমার তিনটি শিশুসন্তান। তাদের দেখার কেউ নেই। তাদের বাড়িতে রেখে আমি ভোট দিতে যাব না। প্রার্থীর লোকজন আসছেন, ভোট চাইছেন। ভোট দিতে যেতে বলছেন।’

তবে শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। সব ভোট কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিটি কেন্দ্রই পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রয়েছে। এখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।’

নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এটি কেবল অফিশিয়াল ক্রাইটেরিয়ার অংশ উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাস্তবে সব কেন্দ্রই সমানভাবে সুরক্ষিত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় সজাগ থাকবে। এ কারণে নাশকতার কোনো সুযোগ নেই।’

ভোটারদের উদ্বেগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জ একটি সংবেদনশীল জেলা। কিছু ভোটারের মধ্যে শঙ্কা থাকতে পারে। এটি মাথায় রেখেই প্রশাসন মাঠে সক্রিয় রয়েছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ভোটারদের উৎসাহিত করতে ইমাম সম্মেলন ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে।’

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ৩০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

সব ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সমন্বিতভাবে নজরদারি করছেন। ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র না থাকায় ৪৮টি কেন্দ্রকে “‍অধিক গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ এগুলো দুর্গম, যাতায়াতে বেশি সময় লাগে। অতীতে এখানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। তবে প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব কেন্দ্র তদারক করছেন। নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত ফোর্সও মোতায়েন করা হয়েছে। ১ হাজার ৩৪০ জন পুলিশ, অন্তত ৫০০ সেনাসদস্য ছাড়াও বিজিবি রয়েছে। ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যাপারে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST