1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
ফল প্রকাশে বিলম্বে বাড়বে গুজব ও সংঘাতের শঙ্কা - Pundro TV
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন



ফল প্রকাশে বিলম্বে বাড়বে গুজব ও সংঘাতের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোয় ভোটানুষ্ঠানের পর ওই দিন মধ্যরাতেই প্রায় ৮০ শতাংশ আসনের ফলাফল বেসরকারিভাবে প্রকাশ করা হতো। এর মাধ্যমে জয়-পরাজয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত। কিন্তু এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট যুক্ত হওয়ায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) উভয় তরফেই বলা হচ্ছে- ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা চিঠির মাধ্যমে এরই মধ্যে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হচ্ছে- ফল প্রকাশে যত বিলম্ব হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নানা প্রযুক্তির বদৌলতে হরেক রকম গুজবও তত বেশি ডালপালা ছড়াবে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে। ফলে ছড়িয়ে পড়তে পারে সংঘাত-সহিংসতা; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলগুলোর মধ্যে বেড়ে যেতে পারে অস্থিরতা, অবিশ^াস। এমনকি প্রশ্ন জাগতে পারে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এ ক্ষেত্রে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গুজব-সহিংসতাসহ যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যৌক্তিক সময়ে ফল প্রকাশ করাই সমীচীন। ফল প্রকাশে সামান্যতম বিলম্ব হলে সে বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ইসির। অন্যথা নির্বাচন ও রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পতিত হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে- এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। নির্বাচন নিয়ে আইন শৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এবার ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। কারণ, এবার শুধু নির্বাচন হচ্ছে না, সঙ্গে গণভোটও হচ্ছে।

দুটি ভোট গণনা একসঙ্গে শুরু হবে। এর সঙ্গে আছে পোস্টাল ব্যালট। এ জন্য কিছু ক্ষেত্রে ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে।

ভোটের ফল প্রকাশ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (রিটার্নিং কর্মকর্তা) কার্যালয় থেকে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির একটা কপি হাতে পাওয়া গেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। এ জন্য ওই ছয়টি আসনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের মনোনীত নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা অন্যান্য জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস থেকেও জারি করা হয়েছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম আমাদের সময়কে বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হওয়াতে ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু ফল প্রকাশে যত বিলম্ব হবে, প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তত অস্থিরতা বাড়বে। নানা গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুজব থেকে রাজনৈতিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত এ বিষয়ে সজাগ থাকা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে রাখা উচিত।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলবে। গণভোটের কারণে এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানকার ভোট স্থগিত করেছে ইসি।

ভোট গণণায় সরাসরি যুক্ত থাকেন প্রিসাইডিং অফিসার। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। আর তত্ত্বাবধান করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই পুরো কাজটির তদারকি ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার। এবার ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা সারা দেশে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন তিনজন। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার নিযুক্ত থাকবেন। তাদের সহযোগিতা করার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কাস্টিং হলে আর সব ভোটার যদি দুটো ব্যালটেই ভোটদান করেন, তাহলে ব্যালট হবে ১২ কোটি থেকে ১৩ কোটি। সেক্ষেত্রে প্রতিজন প্রিসাইডিং অফিসার গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যালট গণনার দায়িত্ব পাবেন।

যেভাবে ভোট গণনা হবে : ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই বিকাল সাড়ে ৪টায় গণনা শুরু হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রতীকভিত্তিক ১০০ করে বান্ডেল করা হবে এবং সাধারণ ভোটের ফলের সঙ্গে পোস্টাল ভোট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হবে। প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক কেন্দ্রের ফলাফল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা আসনভিত্তিক ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। ভোট গণনার সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী মনোনীত একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের স্বাক্ষর নিয়ে ফলাফল পাঠানো হবে। প্রথমে বেসরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করবে ইসি।

বিগত নির্বাচনগুলোয় বিশেষ করে যে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল, সেসব নির্বাচনে মধ্যরাতের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসনের ফল প্রকাশ করার রেকর্ড রয়েছে। এর ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর জয় পরাজয়ের ছক অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে সেসব নির্বাচনের দিন গণভোট হয়নি। এবার যেহেতু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভোট হচ্ছে, এ ছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীরা ভোট দিয়েছেন, তাই কিছুটা সময় বেশি লাগা যৌক্তিক মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সেই বাড়তি সময় কতটুকু এবং সেটার প্রস্তুতি কী- সেসব বিষয়ে ইসির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা থাকা দরকার বলে মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী আমাদের সময়কে বলেন, এবার যেহেতু সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হচ্ছে, তাই কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। কিন্তু সেই বেশি সময় কতটুকু এবং কেন বাড়বে, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ইসির। কারণ, সময় যত বেশি লাগবে, প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি অবিশ^াস তত বেশি দানা বাঁধতে থাকবে, যা ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। সঙ্গত কারণেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে, যেন প্রার্থীরা এ বিষয়ে স্বচ্ছ থাকেন।

অভিজ্ঞতা টেনে জেসমিন টুলী আরও বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে সাধারণত আগে মেয়র, চেয়ারম্যানদের ফল চূড়ান্ত করা হয়ে থাকে। এরপর কাউন্সিলর ও মেম্বারদের ফল দেওয়া হয়। এবার কীভাবে কি করা হবে, জানা নেই। এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের ফল আগে দিয়ে পরে গণভোটের ফল প্রকাশ করলে বিতর্ক এড়ানো যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন কী পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটের দিনই ফল প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যালট গণনা শেষে অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। বড়জোর শেষ রাত বা পরের দিন ঘোষণা হতে পারে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ জন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছে ইসি

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST