টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পর প্রথম ওয়ানডেতে পাত্তাই পেল না ইংল্যান্ড। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। দারুণ সঙ্গ পেলেন আরেক পেসার মোহাম্মদ শামির। পরে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানের দৃঢ়তায় ছোট লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে গেল ভারত।
দা ওভালে মঙ্গলবার ১০ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। ওয়ানডেতে এ নিয়ে সপ্তমবার ১০ উইকেটে জিতল ভারত। সব মিলিয়ে ষষ্ঠ ও ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার এই তেতো স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের ১১০ রান ১৮৮ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় ভারত।
তাদের বিপক্ষে এটাই ইংলিশদের সর্বনিম্ন। ২০০৬ সালে জয়পুরের ১২৫ ছিল আগের সর্বনিম্ন।
১৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে কম রানে গুটিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর বুমরাহ। শামি ৩ উইকেট নেন ৩১ রানে। ইংল্যান্ডের ইনিংসে নেই কোনো পঞ্চাশ রানের জুটি, ত্রিশ পর্যন্ত যেতে পারেন কেবল জস বাটলার।
আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা, উইকেটে ছিল ঘাস। দুই অধিনায়কই তাই টস জিতলে নিতে চেয়েছিলেন বোলিং। চাওয়া পূরণ হয় রোহিতের। তার প্রত্যাশার চেয়েও হয়তো ভালো শুরু এনে দেন বুমরাহ ও শামি।
শুরু থেকে যথেষ্ট সুইং ও বাড়তি বাউন্স পাচ্ছিলেন ভারতীয় পেসাররা। তাদের সামলানোর কোনো পথ যেন জানা ছিল না ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। অষ্টম ওভারে স্রেফ ২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এই পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজন- জেসন রয়, জো রুট, বেন স্টোকস ও লিয়াম লিভিংস্টোন খুলতে পারেননি রানের খাতা। দ্বিতীয় ওভারে তিন বলের মধ্যে রয় ও রুটকে বিদায় করে দেন বুমরাহ। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ওপেনার রয়। বাড়তি বাউন্সে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন রুট।
পরের ওভারে ইংলিশ টেস্ট অধিনায়ক স্টোকসকে ফিরিয়ে দেন শামি। জনি বেয়ারস্টো টানতে পারেননি দলকে। তাকে কট বিহাইন্ড করার পর লিভিংস্টোনকে বোল্ড করে দেন বুমরাহ। যেন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস।
সে সময় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সর্বনিম্ন রানও মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ।
পাল্টা আক্রমণে সব চাপ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জস বাটলার। তবে প্রসিধ কৃষ্ণাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে মইন আলি বিদায় নেওয়ার পর ফিরে যান তিনিও। আক্রমণে ফেরা শামিকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন বাটলার। ৬ চারে ৩২ বলে ৩০ রান করেন তিনি।
শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে কোনোমতে দলের রান একশ পার করেন ডেভিড উইলি। ব্রাইডন কার্সকে বিদায় করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নেন বুমরাহ। পরের ওভারে উইলিকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।
ওয়ানডেতে তার আগের সেরা বোলিং ছিল ২৭ রানে ৫ উইকেট।
রান তাড়ায় প্রথম বলেই ভাঙতে পারত ভারতের শুরুর জুটি। তবে ধাওয়ানকে রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বেয়ারস্টো। পরে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে আম্পায়ার্স কলে এলবিডব্লিউর হাত থেকে বাঁচেন রোহিত। এর বাইরে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
এক প্রান্তে ধাওয়ান ছিলেন সাবধানী। আরেক প্রান্তে ঝড় তোলেন রোহিত। তাদের উদ্বোধনী জুটিই শেষ করে আসে ম্যাচ।