1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
শিবগঞ্জের ৫৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে - Pundro TV
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন



শিবগঞ্জের ৫৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

সরেজমিনে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ওষুধ না পেয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। চিকিৎসার জন্য সরকারি এই প্রাথমিক কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল গরিব মানুষগুলোর এখন বাইরে থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।

ক্লিনিকে আসা হানিফা বেগম (৭০) নামের এক অসহায় বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেসারের রোগী। গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কেনার টাকা নেই। আগে এই কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে সপ্তাহে দুই দিন অল্প অল্প করে ওষুধ পেতাম, তাতেই আমার চলত। কিন্তু নয় মাস ধরে কোনো ওষুধ পাচ্ছি না। টাকার জন্য কিনতেও পারছি না।’

আদরী বেগম (৪০) নামের আরেক নারী জানান, তার স্বামী দিনমজুর। দিন খেটে যে টাকা পান, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। আগে নিজের বা সন্তানদের জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে এখান থেকে কিছু সাধারণ ওষুধ পাওয়া যেত। এখন ওষুধ না পাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার প্রতিটি এলাকার শত শত গরিব ও অসহায় মানুষের মুখে এখন একই কষ্টের কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জানান, প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশু আসেন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়। যা নিজেকেই খুব খারাপ লাগে। কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই।

এই সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, আগে অপারেশন প্লান্ট নামে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে শিবগঞ্জে মোট ৫৬টি কমিনিটি ক্লিনিকে ৩৭ ক্যাটাগরির ঔষধ আসতো। পরে কমিয়ে ২২ ক্যাটাগরির ঔষধ আসতো। জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্টের পর থেকে সেই প্রজেক্টও বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, প্রজেক্ট বন্ধ হওয়ার পরও মজুত থাকা ওষুধ দিয়ে কিছুদিন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। তবে গত ৯ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। তবে সংকট নিরসনে একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে কার্যক্রমটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ট্রাস্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খুব দ্রুত আবারও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST