ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে এগোলে কোথাও চোখে পড়ে সবজির স্তূপ, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার কোথাও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হারিয়ে গেছে সড়কের আসল চেহারা। পথচারীদের হাঁটার ফুটপাত নেই, যানবাহনের চলার লেনও অনেক জায়গায় পরিণত হয়েছে অস্থায়ী বাজারে। গাজীপুর মহাসড়কের বুক চিরে বসা এসব বাজারে প্রতিদিন চলছে লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা। অথচ বাজারগুলোর নামে সরকারি কোনো জমিই নেই।
গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে এমন পাঁচটি বড় বাজার বছরের পর বছর ধরে বসছে। মহাসড়কের ওপর বসা বাজারগুলো হলো শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, জৈনা বাজার এবং সদর উপজেলার বাঘের বাজার। স্থানীয়রা জানান, নিজস্ব জমি না থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বাজারের নামে ইজারা দেওয়া হচ্ছে।
সেই ইজারার আড়ালেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে হাজারো দোকানপাট। গতকাল মঙ্গলবার ওই পাঁচ বাজারের ইজারাদার সওজের জায়গা থেকে বাজার অপসারণ করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ প্রতি বাজারের ইজারাদারের নামে পৃথক নোটিশ জারি করেছেন।
গতকাল বাঘের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের ফুটপাত ছাড়িয়ে একেবারে সড়কের লেন পর্যন্ত বিস্তৃত। যানবাহনকে ধীরগতিতে এক লেন দিয়ে চলতে হচ্ছে। বিকেল নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই অংশে নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে যানজট। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন গাজীপুর সাফারি পার্কে যাওয়া দর্শনার্থীরা।
পার্কের প্রধান প্রবেশমুখের কাছেই বাজারের দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক। শুধু যানজট নয়, ঝুঁকিও রয়েছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ সেটা ব্যবহার করে না। আয়নাল হক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এ বাজারের কোনো জমি নেই, কীভাবে এটির নামে ইজারা হয়– এটাই বড় প্রশ্ন।
জৈনা বাজার এলাকার বাসিন্দা আলমাস হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে হাজার হাজার দোকান বসে থাকে, এটা কীভাবে সম্ভব? যানজটের কারণে বাঘের বাজার থেকে জৈনা বাজার যেতে অনেক সময় লাগে। বিশেষ করে কাঁঠালের মৌসুমে এ বাজারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শত শত গাড়ি আটকা থাকে। এই বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁঠালের বাজার। যা বসে মহাসড়কের ওপরে।
বাঘের বাজারের ইজারাদার ইউনূস আলী মিয়া সমকালকে বলেন, এ বাজার ইজারা দিলেও বাজার বসানোর নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। তবুও প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর আমি ৪৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। বাধ্য হয়ে আমরা সওজের জায়গায় বাজার বসাই।
জৈনা বাজারের ইজারাদার রাসেল আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই বাজার ইজারা নিয়েছি। ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছি। এটা কিন্তু নতুন নয়। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলছে বাজার।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, মহাসড়কের জায়গা দখল সম্পূর্ণ অবৈধ। সওজ গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, ওই পাঁচ বাজারের ইজারাদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে বাজার অপসারণ করা না হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি যোগদানের আগেই বাজারগুলো ইজারা হয়েছে।