সন্তান সবজি খেতে চায় না, বলে দুঃখ করা বাবা-মায়ের সংখ্যা পৃথিবীতে সম্ভবত সবচাইতে বেশি। আর উল্টো দিকে, যেকোনো ভাবেই হোক না কেন সন্তানকে সবজি খাওয়াতে চান, এমন বাবা-মায়ের অভাব নেই পৃথিবীতে। এই যুদ্ধ পৃথিবীর প্রায় সব পরিবারেই হয়। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজির নাম শুনলে বেশির ভাগ শিশু মুখ ফিরিয়ে নেয়।
কিন্তু বাড়ন্ত বয়সে ভিটামিন, মিনারেল আর আঁশের চাহিদা মেটাতে সবজির কোনো বিকল্প নেই। জোর করে বা বকাঝকা করে নয়; বরং কিছু কৌশল আর সৃজনশীলতা ব্যবহার করলে আপনার সন্তান সবজি খেতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এমন কিছু উপায় রইল এখানে।
শিশুরা কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া পছন্দ করে না, কিন্তু খেলার ছলে কিছু করলে তাতে তারা বেশ আগ্রহী হয়। তাই একেক সবজির জন্য একেক ধরনের গল্প তৈরি করুন।
বাজার করতে সন্তানকে সঙ্গে নিন। রঙিন সবজি তাকে দেখান। সেগুলো ছুঁতে দিন এবং তাকেই পছন্দ করতে দিন সে আজ কোন সবজি খেতে চায়। নিজের পছন্দের সবজি খাওয়ার প্রতি তাদের আলাদা একধরনের টান কাজ করে।
সবজি ধোয়া বা সাজানোর কাজে তাকে সাহায্য করতে বলুন। তার নিজের হাতে তৈরি খাবার টেবিলে এলে সে তা বেশ গর্বের সঙ্গে খাবে।
নতুন কোনো সবজি খেতে না চাইলে তার সঙ্গে ‘এক কামড়’ খাওয়ার চুক্তি করুন। জোর না করে শুধু একবার চেখে দেখতে উৎসাহিত করুন। এতে ধীরে ধীরে তার স্বাদে বদল আসবে।বারান্দায় বা জানালার পাশে ছোট টবে পুদিনাপাতা, টমেটো বা মরিচগাছ লাগাতে পারেন। নিজ হাতে লাগানো গাছের সবজি শিশুদের কাছে জাদুর মতো মনে হয়।
দেখতে সুন্দর খাবার বড়দের মতো শিশুদেরও আকর্ষণ করে। সবজি দিয়ে প্লেটে হাসিমুখ, কার্টুন চরিত্র বা ফুল-পাখি আঁকার চেষ্টা করুন। গাজর দিয়ে চুল, টমেটো দিয়ে চোখ আর শসা দিয়ে মুখ বানিয়ে দিলে তারা বেশ মজা পাবে। সবজিগুলো ছোট ছোট করে কেটে কাঠিতে গেঁথে সবজি কাবাব বানিয়ে দিন। সঙ্গে সুস্বাদু কোনো ডিপ বা সস থাকলে তারা অনায়াসে সেগুলো খেয়ে নেবে।
সবজি দিয়ে নাগেট, পাস্তা বা ওমলেট তৈরি করুন। অনেক শিশু সেদ্ধ সবজি খেতে পছন্দ করে না, তাদের জন্য মুচমুচে বা ভাজা সবজি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
যদি আপনার শিশু সবজি দেখলেই প্লেট সরিয়ে নেয়, তবে কিছুটা লুকোচুরি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। পাস্তা সস বা টমেটো সসের সঙ্গে মিহি করে বাটা মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক বা গাজর মিশিয়ে দিন। তারা টেরও পাবে না যে ভেতরে সবজি আছে। মাংসের কিমার সঙ্গে কুচি করে কাটা সবজি মিশিয়ে মিটবল বা কাটলেট তৈরি করুন। এতে খাবারটি নরমও হবে এবং পুষ্টিগুণও বাড়বে।
অবাক মনে হলেও কুমড়ার পিউরি বা গাজরের হালুয়া দিয়ে প্যানকেক বা কেক তৈরি করা যায়। এ ছাড়া স্মুদিতে পালংশাক বা মিষ্টিআলু মিশিয়ে দিলেও ফলের স্বাদে সবজির অস্তিত্ব ঢাকাপড়ে যায়।
শিশু আপনাকে অনুকরণ করে। তারা যদি দেখে, আপনি মজা করে সবজি খাচ্ছেন, তবে তারা নিজে থেকে তা খেতে শিখবে। একটি নতুন খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে একটি শিশুর ১০ থেকে ১৫ বার চেষ্টার প্রয়োজন হতে পারে। তাই একবার না খেলে হাল ছাড়বেন না।
যখনই সে একটু সবজি খাবে, তার প্রশংসা করুন। তবে খাওয়ার বদলে চকলেট বা আইসক্রিমের লোভ দেখাবেন না। শিশু একবারে সব সবজি খাবে না, এটাই স্বাভাবিক। অল্প অল্প করে অভ্যস্ত করাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সবজি খাওয়ানো কোনো যুদ্ধ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস। শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করতে ধৈর্য আর ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। সৃজনশীলতা আর একটু কৌশলই পারে আপনার সন্তানকে সুস্থ ও সবল করে গড়ে তুলতে।
সূত্র ভেরি ওয়েল হেলথ