গরমে এসির ব্যবহার এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গ্যাজেটে পরিণত হয়েছে। একটু সচেতনতা আর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলেই এসির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য আপনাকে জেনে রাখতে হবে এসি ব্যবহারের কিছু কার্যকরী টিপস।
১. সঠিক তাপমাত্রায় এসি চালানো
অনেকেই মনে করেন এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে সেট করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখাই সবচেয়ে আদর্শ। এতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমে, মেশিনের আয়ু বাড়ে এবং বিদ্যুৎ বিল অনেকটা সাশ্রয় হয়।
২. নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা
এসিতে ঠান্ডা কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর ফিল্টারে ধুলো জমা। বাতাসে থাকা ধুলোবালি ফিল্টার আটকে দিলে বায়ু চলাচল ব্যাহত হয়। প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর এসির প্যানেল খুলে ফিল্টার দুটি বের করে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এতে এসির কুলিং ক্ষমতা বাড়বে এবং সার্ভিসিং খরচও বাঁচবে।
৩. নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের গুরুত্ব
এসি টেকনিশিয়ানদের মতে, এসির ৯০ শতাংশ সমস্যার মূল কারণ হলো সময়মতো সার্ভিসিং না করানো। এসি চালু থাকা অবস্থায় প্রতি ২ মাস অন্তর ‘ওয়াশেবল সার্ভিসিং’ করানো উচিত। এছাড়া প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস পর পর ফিল্টার, গ্যাসের মাত্রা এবং আউটডোর ইউনিট পরীক্ষা করলে মেশিন হঠাৎ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
৪. গ্যাস এবং কয়েল পরীক্ষা
যদি দেখেন এসি চালু করার পরও ঘর দ্রুত ঠান্ডা হচ্ছে না, তবে অবিলম্বে গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা করান। ইনডোর ইউনিটের তামার কয়েলে ধুলো জমলে মরিচা পড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে গ্যাস লিক হতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে কয়েল ভালো থাকে এবং এসির পারফরম্যান্স চমৎকার হয়।
৫. ঘর বায়ুরোধী রাখা
এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা-জানালা পুরোপুরি বন্ধ রাখা নিশ্চিত করুন। বাতাস বের হওয়ার জায়গা না থাকলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। এছাড়া দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি এসি ব্যবহার না করাই ভালো, এতে মেশিন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
৬. সার্ভিসিং খরচ ও সাশ্রয়
সাধারণত এসির ড্রাই সার্ভিসিং খরচ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। আর জেট পাম্প দিয়ে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিট পরিষ্কার করালে খরচ হতে পারে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। সামান্য এই খরচটুকু নিয়মিত করলে আপনি বড় ধরনের মেরামতের খরচ এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল থেকে রেহাই পাবেন।