1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
ভোটের পর শেয়ারবাজারে ২০০ পয়েন্ট উত্থান, ১২ হাজার কোটি টাকার মূলধন বৃদ্ধি - Pundro TV
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন



ভোটের পর শেয়ারবাজারে ২০০ পয়েন্ট উত্থান, ১২ হাজার কোটি টাকার মূলধন বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর দেশের শেয়ারবাজারে এক মহা উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। একদিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকার ওপরে। এছাড়া পাঁচ মাস পর প্রথমবার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৩৬৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সর্বাধিক সীমা পর্যন্ত (সার্কিট ব্রেকার) বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া ১৯১ কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়েছে।

ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের লেনদেনের চেয়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বৃদ্ধি। ডিএসই প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০০ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১,১২৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ২,১৪৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

বাজারে দিনের লেনদেন হয়েছে ১,২৭৫ কোটি ৯ টাকা, আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৮৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বৃদ্ধি। শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান:

সিটি ব্যাংক – ৮০ কোটি ৭২ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক – ৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস – ৪১ কোটি ৮ লাখ টাকা

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, রবি, সায়হাম কটন, যমুনা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-র সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়েছে। ২৪৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২০টির দাম বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসের ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি।

বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীর মতামত

ডিএসই পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। তিনি বলেন, “বাজারে এই উল্লম্ফন ‘প্রত্যাশার বারুদ’ হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে। টেকসই ঊর্ধ্বগতি নিশ্চিত করতে হলে ভালো কোম্পানির শেয়ার, সুশাসন ও সরকারের বিনিয়োগবান্ধন নীতি প্রয়োজন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “নতুন সরকারের কমিটমেন্ট বজায় থাকলে শেয়ারবাজার আরও ভালো অবস্থানে যাবে। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা নয়, অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতি, ডলার বাজারে স্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ আগামী দিনে বাজারের স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সূচনা করবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, টেকসই উত্থানের জন্য করপোরেট আয় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।

এক কথায়, নির্বাচনের পরপরই শেয়ারবাজারে দেখা এই উচ্ছ্বাস রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটার পর পুঁজিবাজারের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পরিচায়ক। এখন দেখার বিষয়, এই ‘প্রত্যাশার বারুদ’ সাময়িক উল্লাসে সীমাবদ্ধ থাকে নাকি স্থিতিশীল ও সংস্কারভিত্তিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি গড়ে তোলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST