1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
কেমন ছিলেন খলিফা উমর রা. শাসনকাল - Pundro TV
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন



কেমন ছিলেন খলিফা উমর রা. শাসনকাল

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এমনই একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ও শাসক, যার নাম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিস্ময়ের সঙ্গে উচ্চারিত হয় আজও। তার চিন্তা, কর্মপদ্ধতি ও নীতি আজও বিশ্বের বহু দেশে রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন আলাদা এক পাঠশালা। সাহসিকতা, নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, খোদাভীতি ও ন্যায়পরায়ণতা সব গুণই যেন একত্র হয়েছিল তার মধ্যে। তিনি খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মজবুত সঙ্গে সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক শুদ্ধাচারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরাইশ গোত্রের বনি আদি শাখার অন্তর্গত। তিনি ছিলেন জাহেলি যুগে মক্কার গণ্যমান্য নেতা ও সমাজপতি। তার বাবার নাম খাত্তাব এবং মায়ের নাম হান্তামা। শৈশবেই তিনি ঘোড়সওয়ারি, কুস্তি ও ভাষণদানে পারদর্শিতা অর্জন করেন। স্বাভাবিকভাবেই তার চরিত্র ছিল দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন

ইসলামের শুরুর যুগে একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)কে  হত্যা করার জন্য ওমর (রা.) রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহর কুদরতে সেই পথেই ঘটল তার হৃদয়োন্মোচন। যখন তিনি তার বোন ফাতেমা ও ভগ্নিপতি সাঈদ (রা.)এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা জানতে পারেন এবং তাদের ঘরে গিয়ে কুরআন তেলাওয়াত শুনেন, তখন কুরআনের অলৌকিক ভাষা ও তাওহিদের আহ্বানে তিনি অভিভূত হন। সঙ্গে সঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণ ছিল ইসলামের বিজয়ের সূচনা।

ইসলামের শক্তি ও সাহসের প্রতীক

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণের আগে মুসলমানরা গোপনে নামাজ আদায় করতেন, ইসলামের দাওয়াতও ছিল সীমাবদ্ধ। কিন্তু তিনি মুসলমান হওয়ার পরই প্রথমবার মুসলমানরা প্রকাশ্যে ইবাদত করেন।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ ওমরের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তি দান করেছেন।’ তিনি ছিলেন একাধারে সাহসী ও তাকওয়াবান মানুষ।

খেলাফতের দায়িত্ব

হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুশয্যায় থাকার সময় হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মুসলিম উম্মাহর খলিফা মনোনয়ন দেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমেই তার মনোনয়নের ব্যাপারে উম্মতের মতামত নিয়ে নিশ্চিত হন। এই সিদ্ধান্ত যে সময়োপযোগী ও সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করেছে তার শাসনকাল।

শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দক্ষতা

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসন ছিল সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তিনি কয়েকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন।১. দেওয়ান বা প্রশাসনিক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।

২. হিজরি সন প্রবর্তন করেন।

৩. কাজি নিয়োগ করে বিচারব্যবস্থা পৃথক করেন।

৪. বিভিন্ন প্রদেশে গভর্নর ও আমির নিযুক্ত করেন এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।

৫. সরকারি ভাতা বা বায়তুল মালের সুব্যবস্থা করেন।

৬. মুসলিম সৈন্যবাহিনীকে সংগঠিত ও পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেন।

৭. নগর পরিকল্পনা ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মসজিদ নির্মাণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তিনি রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে শহরের অবস্থা খতিয়ে দেখতেন, গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়াতেন, এমনকি নিজের কাঁধে খাদ্যের বস্তা তুলে নিতেন। তার ন্যায়পরায়ণতা এতটাই খ্যাত ছিল যে তিনি নিজেই বলতেন, ‘ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে আমি আল্লাহর

কাছে দায়ী থাকব।’

একবার এক শীতের রাতে খলিফা হজরত উমর রা. নিয়ম মাফিক টহল দিচ্ছিলেন মদিনার পথে। তখন হঠাৎ তিনি বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। শব্দ অনুসরণ করে সেই গন্তব্যে পৌঁছলেন।  দেখলেন, একজন বিধবার চারপাশ ঘিরে বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে। কারণ জানতে চাইলে ওই নারী বললেন যে ক্ষুধার জ্বালায় তারা কাঁদছে। তখন জ্বলন্ত উনুনে হাড়িতে কি যেন টগবগ করছিল। হজরত উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন: চুলার ওপর হাড়িতে কি আছে? নারী উত্তর দিলেন যে তাতে কয়েকটি নুড়ি পাথর ছাড়া আর কিছুই নেই। বরং বাচ্চাদেরকে এভাবে ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। যতক্ষণ না তারা ঘুমিয়ে যায়। ওই নারী খলিফার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুললেন।

হজরত উমর রা. এর দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে এলো। তিনি বায়তুল মালে (রাষ্ট্রের কোষাগারে) ছুটে গেলেন এবং সেখান থেকে আটার বস্তা ও তেল নিজের পিঠে করে বয়ে নিয়ে এলেন। নিজ হাতে  আগুন জ্বালালেন। খাবার তৈরি করে বাচ্চাদের খাওয়ালেন। তারপর তিনি নারীকে বললেন- বায়তুল মাল থেকে তিনি যেন তার প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে আসেন।

প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সত্যিকার অসহায় অভাবীর অভিযোগকে আমলে নিয়ে সাধ্য মতন সঠিক ব্যবস্থা করা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদেরকে বের করা হয়েছে, মানব কল্যাণের জন্য। (সুরা আলে ইমরান :১১০

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST