পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকা এ নেতার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি আংশিক লোপ পাওয়ার খবরে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খবর এপি।সম্প্রতি পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকেই ইমরান খান ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এ পরীক্ষার পর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হবে।
এর আগে ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সফদার আদালতে জানিয়েছিলেন, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে। এর পরই আদালত দ্রুত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং গত ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ বিরতির পর গত শনিবার ইমরান খান তার ছেলেদের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেছেন।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তার সমর্থকরা বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে এ দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে। পিটিআইয়ের কিছু সংসদ সদস্যও সংসদের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তবে সরকারের এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইমরান খানের পরিবার। তার বোন আলিমা খান জানিয়েছেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়া কোনো চিকিৎসা প্রক্রিয়া তারা মেনে নেবেন না। তারা চান ইমরান খানের চিকিৎসা যেন পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
৭৩ বছর বয়সী সাবেক এ তারকা ক্রিকেটার ২০২৩ সাল থেকে তোশাখানা দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে কারাবন্দি থাকলেও পাকিস্তানে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বী। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তার এ শারীরিক অসুস্থতার খবর দেশটিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।