1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
সাগর-রুনি হত্যার রহস্য কি উদঘাটন হবে - Pundro TV
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন



সাগর-রুনি হত্যার রহস্য কি উদঘাটন হবে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

১৪ বছর আগে ঢাকার নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। তিনটি সংস্থা ঘুরে গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সর্বশেষ তদন্তের দায়িত্ব পায় টাস্কফোর্স। ১৭ মাস ধরে তদন্ত করেও টাস্কফোর্স চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। এখন তাদের চাওয়া ঘটনার সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সে সময়কার আইজিপি ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান।

যাতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়। এমন কারণ দেখিয়ে রোববার (২৬ এপ্রিল) তৃতীয় বারের মতো সময় আবেদন করে টাস্কফোর্স। এমতাবস্থায় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি তদন্তে আবারও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। গতকাল হাইকোর্টে দাখিল করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে টাস্কফোর্স বলেছে,

দীর্ঘ তদন্তে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত তা অদ্যাবধি সুনির্দিষ্ট করা যায়নি। এজন্য মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর যেসব তদন্ত সংস্থা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তারা তদন্তে যেসব তথ্য পেয়েছিলেন তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে টাস্কফোর্সের কাছে হস্তান্তর হচ্ছে না।

ফলে ঘটনার ১২ বছর পর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, আলামত, ঘটনাস্থল সব কিছু টাস্কফোর্স উত্তরাধিকার সূত্রে পায়নি। এজন্য সে সময়কার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে চায় টাস্কফোর্স। কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ পর্যন্ত টাস্কফোর্সও সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি আদালতে দাখিল করতে পারেনি।

রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির বলেন, আজ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তৃতীয় বার সময় আবেদন করে টাস্কফোর্স বলেছে, আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী, আইজিপি, র্যাব মহাপরিচালক ও সাংবাদিক রয়েছেন। কিন্তু এরা তো দেশে নেই। তাহলে তদন্তের ফলাফল কি হবে? তিনি বলেন, কেন সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যা করা হলো? দাম্পত্য কলহ, ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্ব, পেশাজীবী কোনো কাজ, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের কোনোটার কারণেই তাদের হত্যা করা হয়নি।

টাস্কফোর্স এখনো মোটিভ খুঁজে পায়নি। যদি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত না হয় তাহলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে তিনটি তদন্ত সংস্থা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। টাস্কফোর্সকে আবারও তদন্তের জন্য ছয় মাস সময় দিয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে কূলকিনারা না করতে পারে তাহলে কি আমরা ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কারণ যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তারা তো দেশে নেই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন সেই সম্ভাবনাও দেখছি না। হতাশা ছাড়া সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

প্রসঙ্গত গত বছরের এপ্রিল মাসে টাস্কফোর্সের দাখিল করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই ব্যক্তি জড়িত। কিন্তু ডিএনএর অধিক মিশ্রণজনিত কারণে দুই খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্যারাবন স্ন্যাপশট। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি,

বঁটি, ছুরির বাঁট এবং সাগর-রুনির পরিধেয় বস্ত্রাদিসহ অন্যান্য আলামত ও ২৫ জন ব্যক্তির বুকাল সোয়াব (মুখের ভেতরের কোষ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ) সংগ্রহপূর্বক ডিএনএ পরীক্ষার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাইওনিয়ার ফরেনসিকস, ইন্ডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিসেস এবং নেদারল্যান্ডের ইন্ডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিস (আইএফএস) ল্যাবে প্রেরণ করা হয়। আলামতে প্রাপ্ত ডিএনএর সাথে প্রেরিত ব্যক্তিদের ডিএনএ ম্যাচিং হয়নি বলে ডিএনএ ল্যাব কর্তৃক প্রেরিত

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ল্যাব প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনাস্থলে চার জন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন জন পুরুষ ও একজন নারী। তিন জন পুরুষের মধ্যে একজন সাগর সারওয়ার এবং একজন নারী মেহেরুন রুনির বলে শনাক্ত হয়। বাকি দুই জন অজ্ঞাত পুরুষ, এরা কারা তা উদ্ঘাটন করা যায়নি। অজ্ঞাতনামা দুই জন পুরুষের ডিএনএ থেকে ছবি করতে ডিএনএ সেলে ছবি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যারাবন স্ন্যাপশটে উক্ত ডিএনএ প্রেরণ করা হয়। কিন্তু ডিএনএতে অধিক মিশ্রণজনিত কারণে প্যারাবন স্ন্যাপশট ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি বলে মতামত দিয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঐ দিনই রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। শেরেবাংলা নগর থানা চার দিন তদন্ত করেন। পাঁচ দিন পর মামলাটির তদন্ত যায় ডিবির হাতে। ৬৩ দিন তদন্ত করে ডিবি।

এরপর এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে তদন্তভার যায় র্যাবের হাতে। ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ১২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন তদন্ত করে র্যাব। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাইকোর্টের আদেশে মামলার তদন্ত যায় টাস্কফোর্সের হাতে। টাস্কফোর্সের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন পিবিআই প্রধান। সদস্য হিসেবে সিআইডি, র্যাব ও পুলিশ সদরদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST