প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে রেকর্ডের মালা পড়িয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে ৮ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয়টিতে সফরকারীদের দেয়া ২৭৪ রানের জবাবে সেই ১১৪ রানেই স্বাগতিকদের থামিয়ে ১২৮ রানে জেতে পাকিস্তান। দুই ম্যাচের পার্থক্য কেবল দ্বিতীয়টির দফা হয়েছে বৃষ্টি আইনে। তাতে মধুর প্রতিশোধ নিয়েই সিরিজে ফিরেছে শাহীন শাহ আফ্রিদীর দল। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। শেষ ম্যাচটি রূপ পেয়েছে অলিখিত ফাইনালে। আজ একই ভেন্যু মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর সোয়া দুইটায় হবে ম্যাচটি।
বাংলাদেশ সংবাদসিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন পেসার নাহিদ রানা। ৭ ওভার বল করে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। শোচনীয় সেই হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করে সফরকারীরা। পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। ৪৬ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ২৭৫ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে নেমে ৬ দশমিক ৩ ওভারে ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকায় বৃষ্টি আইনে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের নতুন টার্গেট পায় টাইগাররা। নতুন লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৩ দশমিক ৩ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে ম্যাচ হারে মিরাজ-লিটনরা।
আজ তৃতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি থাকলে সিরিজ হারের লজ্জা পেতে হবে টাইগারদের। দ্বিতীয় ম্যাচের ভুল শুধরে তৃতীয় ওয়ানডেতে ভালো পারফরমেন্স করতে চান মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা প্রথম ১০ ওভারে ভালো করতে পারিনি। যা আমরা প্রথম ম্যাচে করেছিলাম। ব্যাট করার জন্য এটি খুব ভালো উইকেট ছিল। কিন্তু আমাদের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা খুব বেশি রান পায়নি।’ সিরিজ জিততে হলে ব্যাট-বল হাতে আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন মিরাজ, ‘ব্যাটিং-বোলিংয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে এবং আরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমি আশা করি, খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে।’
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় ওয়ানডের দল নিয়েই মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ। তবে অলিখিত ফাইনালে। তার আগে ধাক্কা খেলে পাকিস্তান। কাঁধের চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে থেকে ছিটকে গেছেন দলটির অলরাউন্ডার হুসেইন তালাত। তালাতের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। গতপরশু দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পান তিনি। বাংলাদেশের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লিটন দাস অফসাইড দিয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বল পাঞ্চ করে মারলে বল থামানোর জন্য বাউন্ডারির দিকে দৌড়ে যান তালাত। বাউন্ডারির কাছে পৌঁছে বল ফেরানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি; বল স্পর্শ করার সময় বাউন্ডারি লাইনের ফোমে তার পা পড়ে। ভারসাম্য হারিয়ে তিনি বিজ্ঞাপন বোর্ডে ধাক্কা খান। তাতে তার বাঁ কাঁধে জোরে আঘাত লাগে।এই ঘটনার পরপরই পাকিস্তান দলের অন্যান্য ক্রিকেটার এবং মাঠে থাকা স্টাফরা দ্রুত তালাতের কাছে ছুটে যান। মাঠেই দলের মেডিকেল স্টাফরা তালাতকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন। পরে স্ট্রেচার এনে তাঁকে মাঠ থেকে সরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিপোর্ট পেয়ে পিসিবি জানিয়েছে, কাঁধের এই চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ সময় লাগবে তালাতের।
শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেই নয়, এই চোটের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পরবর্তী পর্ব থেকেও ছিটকে গেছেন তালাত। যেটা তার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এল। পাকিস্তানের ন্যাশনাল একাডেমিতে তালাতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলবে। তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে পিসিবি।